বিএসইসি চেয়ারম্যান
শেয়ারবাজারকে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন করা হবে

ছবি: আগামীর সময়
দেশের শেয়ারবাজারকে আরও কার্যকর, গতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব করতে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশনকে অন্যতম অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। শেয়ারবাজারের কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইপিও প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমিয়ে সহজ ও কার্যকর নিয়ন্ত্রক পরিবেশ তৈরি করা হবে।
আজ রবিবার বিএসইসির কার্যালয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খান এসব কথা বলেছেন।
এ সময় বিএসইসির কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান, নাহিদ মাহতাব ও মো. নাফিজ আল তারিকসহ বিএসইসির শীর্ষ কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন। তাদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানায় ডিএসই। এ সময় বিএসইসি ও ডিএসইর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মাসুদ খান জানান, শেয়ারবাজারকে আরও গতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব করতে কমিশন একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাজারের কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন নিশ্চিত করা হবে এবং অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমিয়ে একটি সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলা হবে। সম্প্রতি প্রণীত আইপিও, মার্জিন ঋণ ও মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বাজারের সব অংশীজনের সহযোগিতায় একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই শেয়ারবাজার গড়ে তুলতে কমিশন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বৈঠকে ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘শেয়ারবাজারে কাঙ্ক্ষিত ও মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়নে ডিএসই বোর্ড ও ব্যবস্থাপনা সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করতে প্রস্তুত। পাশাপাশি আইপিও মূল্যায়ন ও বাজার তদারকিতে সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।’
ডিএসইর পরিচালক সৈয়দা জাকেরিন বখত নাসির বলেছেন, ‘শেয়ারবাজারের কার্যকর উন্নয়নের জন্য বিএসইসি ও ডিএসইর মধ্যে দায়িত্ব ও কর্তৃত্বের স্পষ্ট বিভাজন, কার্যকর সমন্বয় এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার উন্নয়ন প্রয়োজন।’
ডিএসইর পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেছেন, ‘শেয়ারবাজারের আইপিও ও রাইটস ইস্যু প্রক্রিয়ায় অধিকতর জবাবদিহিতা, দক্ষতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
ডিএসইর পরিচালক রিচার্ড ডি রোজারিও বলেছেন, ‘শেয়ার ক্যাটাগরি ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন, আধুনিক সেটেলমেন্ট ব্যবস্থা চালু এবং ডিলিস্টিং প্রক্রিয়া গুরুত্বসহকারে কার্যকর করা প্রয়োজন।’
ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন ব্রোকারেজ খাতের অনিয়ম প্রতিরোধ এবং আইপিও প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় স্টক এক্সচেঞ্জের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি কমিশনের নতুন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে একটি স্বচ্ছ, আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে ডিএসইর সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেছেন, ‘স্ক্রিপ্ট নেটিং ও টি+১ সেটেলমেন্ট ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে ডিএসই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। এ বিষয়ে বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।’




