লেনদেনের শীর্ষে থেকেও দাম হারাল ২ কোম্পানি

বিদায়ী সপ্তাহে (৮-১২ মার্চ) শেয়ারবাজারে বড় উত্থান দেখা গেলেও লেনদেনের গতি ছিল শ্লথ। আলোচ্য সপ্তাহে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৬৫৬ কোটি ৮২ লাখ টাকার, যেখানে আগের সপ্তাহে মোট লেনদেন হয়েছিল ৩ হাজার ৪৮২ কোটি ৪৫ লাখ টাকার। তবে আলোচ্য সপ্তাহে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে উল্লেখযোগ্য গতি দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় উঠে এসেছে ওরিয়ন ইনফিউশন, সিটি ব্যাংক, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ব্র্যাক ব্যাংক, রবি আজিয়াটা, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, খান ব্রাদার্স, লাভেলো আইসক্রিম, সাপোর্ট ও ইনটেক অনলাইন।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহজুড়ে লেনদেনের শীর্ষে ছিল ওরিয়ন ইনফিউশন। কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকার। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ১২ লাখ টাকা। এছাড়া অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের ১৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা, ব্র্যাক ব্যাংকের ১৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা এবং রবি আজিয়াটার শেয়ার লেনদেন হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
এছাড়া এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ার লেনদেন হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। খান ব্রাদার্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে প্রায় ১৩ কোটি টাকা। তালিকায় থাকা লাভেলো আইসক্রিমের লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ২৫ লাখ টাকা, সাপোর্টের ১০ কোটি ৪২ লাখ টাকা এবং ইনটেক অনলাইনের ৯ কোটি ১২ লাখ টাকা।
এই তালিকায় থাকা বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর সপ্তাহজুড়ে ইতিবাচক প্রবণতা দেখিয়েছে। এর মধ্যে সিটি ব্যাংকের শেয়ারদর বেড়েছে ৫.০৮ শতাংশ, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের ৫.৪৪ শতাংশ, ব্র্যাক ব্যাংকের ১.৩০ শতাংশ, রবি আজিয়াটার ৩.০২ শতাংশ এবং এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ারদর বেড়েছে ১০.৫৮ শতাংশ।
একই সময়ে লাভেলো আইসক্রিমের শেয়ারদর বেড়েছে ৮.২৬ শতাংশ, সাপোর্টের ২.৭০ শতাংশ এবং ইনটেক অনলাইনের শেয়ারদর বেড়েছে ৭.৮০ শতাংশ। এতে বোঝা যাচ্ছে, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে তালিকাভুক্ত এসব কোম্পানির শেয়ারে বাজারজুড়ে সক্রিয়তা বজায় ছিল।
অন্যদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে ওরিয়ন ইনফিউশন ও খান ব্রাদার্সের শেয়ারদরে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও কোম্পানি দুটির শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ ছিল উল্লেখযোগ্য। সপ্তাহের লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ারদর কমেছে ৪.৭৬ শতাংশ এবং লেনদেনর সপ্তম অবস্থানে থাকা খান ব্রাদার্সের শেয়ারদর কমেছে ০.৯৬ শতাংশ। তবে স্বল্প মূলধনী কোম্পানি হওয়ায় ইতিবাচক বাজারে এমন নেতিবাচক আচরণকে স্বাভাবিক বলছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, কোম্পানি দুটির ডিভিডেন্ড ইতিহাস বিনিয়োগকারীদের জন্য বেশ ইতিবাচক রয়েছে। ওরিয়ন ইনফিউশন সর্বশেষ ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ২০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে খান ব্রাদার্স একই সময়ের জন্য ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের কাছে কোম্পানিটির স্থিতিশীলতার একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় থাকা এসব কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বাজারে নতুন গতি তৈরি করেছে। বিশেষ করে ওরিয়ন ইনফিউশন ও খান ব্রাদার্সের মতো কোম্পানিগুলোর উল্লেখযোগ্য লেনদেন ভবিষ্যতেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।

