৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহে কনফিডেন্স পাওয়ারের আইপিও আবেদন
- দুই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিকল্পনা

সংগৃহীত ছবি
শেয়ারবাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায় কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি। এ লক্ষ্যে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিওর অনুমোদন চেয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কাছে আবেদন করেছে কোম্পানিটি। আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থের বড় অংশ দুটি প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান ঋণের আংশিক পরিশোধ ও আইপিও-সংক্রান্ত ব্যয় মেটাতেও এ অর্থ ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্রমতে, গত ২৮ অক্টোবর ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে আবেদনটি জমা দেয় কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি। এতে ২০২৫ সালের পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ বিধিমালা এবং বিএসইসির অন্যান্য প্রযোজ্য আইন ও নির্দেশনা অনুসারে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিওর মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ডিএসই ও বিএসইসির পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে কোম্পানিটির শেয়ার ইস্যু ও অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়া।
কোম্পানিসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে কনফিডেন্স গ্রুপের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি। প্রতিষ্ঠানটি স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানি হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠার দুই বছরের মধ্যে সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মিলে মোট ৩৯৩ দশমিক ৩৬৩ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করে কোম্পানিটি।
কোম্পানিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রচলিত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে চায় তারা। এ লক্ষ্যে দুটি প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থের প্রধান অংশ এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে। এর মাধ্যমে জ্বালানি ব্যবসায় বৈচিত্র্য আনা এবং দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ ছাড়া আইপিওর অর্থ দিয়ে বিদ্যমান ঋণের একটি অংশ পরিশোধ করা হবে। এতে কোম্পানির মূলধন কাঠামোর উন্নয়ন এবং আর্থিক অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে আইপিও-সংক্রান্ত ব্যয়ও এ অর্থ থেকে মেটানো হবে। তবে কোন প্রকল্পে কত টাকা বিনিয়োগ করা হবে এবং ঋণ পরিশোধে কত টাকা ব্যয় হবে, আবেদনে তার বিস্তারিত পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি।
প্রস্তাবিত আইপিওর অংশ হিসেবে গত ১৮ অক্টোবর ঢাকার রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে রোড শো আয়োজন করে কোম্পানিটি। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম, আর্থিক অবস্থা, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, ব্যবসায়িক ঝুঁকি এবং আইপিওর অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। রোড শো শেষে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ আইপিওর অনুমোদন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আবেদন জমা দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
আবেদনের সঙ্গে ডিএসইর অনুকূলে মিডল্যান্ড ব্যাংক থেকে ইস্যু করা ৫০ হাজার টাকার পে-অর্ডার, কোম্পানির নিবন্ধন ও সংঘস্মারক-সংঘবিধির অনুলিপি, পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত, পরিচালকদের সম্মতিপত্র, জমির মালিকানা-সংক্রান্ত নথি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের তালিকাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রেড হেরিং প্রসপেক্টাসের ছয়টি কপিও আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে শেয়ারের কাট-অফ মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এরপর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ারের মূল্য ও বরাদ্দের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বিধিমালা অনুসারে মূল্য নির্ধারণ ও আইপিও অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
কোম্পানিটির প্রস্তাবিত আইপিও এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। কোম্পানিটির দাখিলকৃত প্রসপেক্টার পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই শেষে আইপিও'র মাধ্যমে শেয়ার বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়া হবে।



