সিনহা সিকিউরিটিজ
আর্থিক বিবরণী ফের প্রকাশের নির্দেশ

সংগৃহীত ছবি
শেয়ারবাজারের সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউজ সিনহা সিকিউরিটিজ লিমিটেডের আর্থিক বিবরণী নিয়ে কঠোর অবস্থানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। প্রতিষ্ঠানটির ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক বিবরণীর তুলনামূলক তথ্য সংশোধন করে পূর্ববর্তী সময়ের তথ্যও সংশোধনের মাধ্যমে ফের প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশোধনের প্রতিটি বিষয়ের প্রকৃতি, কারণ ও আর্থিক প্রভাবের বিস্তারিত তথ্য, প্রয়োজনীয় দলিলপত্র এবং হিসাবের সমন্বয় বিবরণী দাখিল করতে বলা হয়েছে। সংশোধিত আর্থিক বিবরণী স্ট্যাটুটরি অডিটরের মাধ্যমে যাচাই করানোরও নির্দেশ দিয়েছে ডিএসই।
সম্প্রতি সিনহা সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। সিনহা সিকিউরিটিজের গত ১২ আগস্ট একটি চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে নির্দেশনাটি দেওয়া হয়েছে। এর আগে, ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক বিবরণী নিয়ে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ জানিয়ে চিঠি দিয়েছিল ডিএসই। এবার ওই পর্যবেক্ষণগুলো যথাযথভাবে পরিপালন এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটিকে নতুন করে নির্দেশনা দিয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জ।
ডিএসইর চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক হিসাবরক্ষণ মান (আইএএস), আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান (আইএফআরএস) এবং অন্যান্য আইন ও নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে চিঠিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হলো, ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের তুলনামূলক আর্থিক তথ্য সংশোধন করে রেট্রোস্পেকটিভ পুনঃপ্রকাশ করতে হবে। অর্থাৎ, প্রয়োজনীয় সংশোধন শুধু নতুন আর্থিক বিবরণীতে দেখালেই হবে না; আগের বছরের তুলনামূলক তথ্যও সংশোধিত অবস্থায় উপস্থাপন করতে হবে। এর ফলে আর্থিক বিবরণীতে সংশ্লিষ্ট হিসাবের পরিবর্তন হলে তার প্রভাব পাঠকের কাছে তুলে ধরতে হবে স্বচ্ছভাবে।
ডিএসই বলেছে, প্রতিটি সংশোধনের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রমাণপত্র দিতে হবে। একই সঙ্গে সংশোধনের আগে ও পরের হিসাবের মধ্যে কী পরিবর্তন হয়েছে, তার যথাযথ সমন্বয় বিবরণী এবং সংশোধনের প্রকৃতি ও বার্ষিক আর্থিক প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দিতে হবে। ফলে সিনহা সিকিউরিটিজকে শুধু সংশোধিত হিসাব জমা দিলেই হবে না; বরং কেন সংশোধন করা হয়েছে এবং সেই সংশোধনের ফলে আর্থিক অবস্থায় কী প্রভাব পড়েছে, সেটিও স্পষ্ট করতে হবে নথিপত্রের মাধ্যমে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রস্তাবিত পুনঃপ্রকাশিত আর্থিক তথ্য অবশ্যই কোম্পানির স্ট্যাটুটরি অডিটরের মাধ্যমে যথাযথভাবে যাচাই ও সত্যায়িত হতে হবে। পাশাপাশি সংশোধিত হিসাব প্রযোজ্য আইএএস ও আইএফআরএসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না— সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
ডিএসইর চিঠিতে আর্থিক বিবরণীতে সঠিক হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি নির্ধারণ ও প্রয়োগের দায়িত্বও স্পষ্ট করা হয়েছে। এ দায়িত্ব শুধু প্রতিষ্ঠানের হিসাব বিভাগ বা ব্যবস্থাপনার নয়; বরং ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা পর্ষদ ও স্ট্যাটুটরি অডিটর— সংশ্লিষ্ট সবার ওপরই বর্তায়। ফলে আর্থিক বিবরণীতে কোনো অসংগতি বা সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্ব ও জবাবদিহির বিষয়টিও বিবেচিত হবে গুরুত্বের সঙ্গে।
এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে সিনহা সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে বিএসইসি। প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে (সিসিএ অ্যাকাউন্ট) ঘাটতি ছিল ৯ কোটি ৮২ লাখ ২৪ হাজার টাকা। এ ঘাটতি পূরণ করার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে একাধিকবার সময় দেয় বিএসইসি। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্রোকারেজ হাউজটির পরিচালনা পর্ষদ সেই ঘাটতি পূরণ করতে না পরায় গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে ৯২১তম কমিশন সভায় সিনহা সিকিউরিটিজের পরিচালক এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা সিইওদের ব্যাংক ও বিও হিসাব জব্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) চিঠি দেয় বিএসইসি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা সিইওর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রদানের জন্য পুলিশের বিশেষ শাখা বরাবর চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানায় কমিশন।



