ছয় ফান্ডে এলআর গ্লোবালের নিয়োগ বাতিল
- বিতর্কিত বিনিয়োগে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা

এলআর গ্লোবাল । ছবি : সংগৃহীত
মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ বিতর্কিতভাবে বিনিয়োগ করে ইউনিটহোল্ডারদের আর্থিক ক্ষতির দায়ে ছয় ফান্ডের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থেকে এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের নিয়োগ বাতিল করে আদেশ জারি করা হয়েছে। এ খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সম্প্রতি বিএসইসির ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন থেকে জারি করা হয়েছে এ-সংক্রান্ত আদেশ।
আদেশ অনুযায়ী ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড-১, এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড-১ এবং এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে এলআর গ্লোবালের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। এ সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিটির প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তার (সিআইও) দায়িত্বে রয়েছেন রিয়াজ ইসলাম। উপদেষ্টার হিসেবে রয়েছেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও ক্রীড়া সাংবাদিক রেজাউর রহমান সোহাগ।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, এলআর গ্লোবাল সিকিউরিটিজ আইন (বিধি ১৩, ১৫(৫), ৩২(খ), ৩৩(১), ৩৩(৭), ৫৬ এবং তফসিল-৫-এর শর্ত ৩) সরাসরি লঙ্ঘন করে ফান্ডের অর্থ কোয়েস্ট বিডিসিতে বিনিয়োগ করেছিল। এর ফলে সাধারণ ইউনিটহোল্ডাররা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন এলআর গ্লোবালের নিয়োগ বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০২৫ সালের ২২ ও ৩০ ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের ১২ ও ১৯ জানুয়ারি পৃথক চারটি কারণ দর্শানোর নোটিস ও শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত কোনো শুনানিতেই এলআর গ্লোবালের প্রতিনিধি উপস্থিত হননি। তাদের দাখিল করা লিখিত ব্যাখ্যাও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে হয়নি গ্রহণযোগ্য।
কমিশনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, এলআর গ্লোবালের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং তাদের গৃহীত প্রতিটি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত ছিল জনস্বার্থবিরোধী। ঠিক এ কারণেই বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৩১(৩) প্রয়োগ করে প্রতিষ্ঠানটির নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। এর আগে ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিএসইসির ৯৯৭তম কমিশন সভায় গৃহীত হয় প্রতিষ্ঠানটির নিয়োগ বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ, ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকা দুর্বল আর্থিক অবস্থার পদ্মা প্রিন্টার্সের (বর্তমান কোয়েস্ট বিডিসি) ৫১ শতাংশ শেয়ার বাজারদরের চেয়ে অস্বাভাবিক বেশি দামে কিনে মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বিনিয়োগ করা। ওই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারের লেনদেন মূল্য ১৩ টাকার কিছু বেশি থাকলেও, এলআর গ্লোবাল প্রিমিয়ামসহ শেয়ার কেনে ২৮৯ টাকায়।
অন্যদিকে, কোয়েস্ট বিডিসিকে ১০ টাকা মূল্যে শেয়ার ইস্যু করার সম্মতি দেওয়া হলেও, এলআর গ্লোবাল তা কেনে ১৫ দশমিক ৮৮ টাকায়। পাশাপাশি এলআরজি ভেঞ্চার একই শেয়ার কেনে ১০ টাকায়। ফলে এলআরজি ভেঞ্চারের মুনাফা এলআর গ্লোবাল পেলেও, ফান্ড ছয়টির ইউনিটহোল্ডাররা তা থেকে বঞ্চিত হবেন। এ ছাড়া শেয়ার ক্রয়ে সিকিউরিটিজ আইনের নির্দেশনা উপেক্ষা করেছে এলআর গ্লোবাল। নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালক নিয়োগ, ট্রাস্টির পূর্বানুমোদন ছাড়াই পরিচালনায় অংশগ্রহণ এবং বিনিয়োগকৃত অর্থ থেকে ২০২২ সাল থেকে ফান্ডগুলোকে মুনাফা না দিয়ে ইউনিটহোল্ডারদের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলেছে কোম্পানিটি।
আদেশের বিষয়ে এলআর গ্লোবালের সিআইও রিয়াজ ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।




