অর্থনীতিতে বহুমুখী চাপ : রাজস্ব ঘাটতি ও ব্যাংক ঋণে জর্জরিত সরকার

সিপিডি আয়োজিত অনুষ্ঠান। ছবি : আগামীর সময়
দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বর্তমানে এক গভীর ও বহুমুখী সংকটের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আদায়ে স্থবিরতা এবং ব্যাংকিং খাতের চরম মূলধন সংকট মিলে এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) প্রকাশিত ‘স্টেট অব দ্য বাংলাদেশ ইকোনমি ইন এফওয়াই ২০২৫-২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.০৪ শতাংশ, যেখানে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে ৯.৫৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের আয়ের তুলনায় ব্যয়ের এই উল্লম্ফন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতাকে আশঙ্কাজনকভাবে কমিয়ে দিয়েছে।
সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ মেয়াদে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৬.৯ শতাংশ। বাকি সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে হলে অবিশ্বাস্যভাবে ৮৪.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন, যা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছে সিপিডি। অন্যদিকে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হারও বিগত আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন (৩৫.৪%) পর্যায়ে নেমে এসেছে।
বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার এখন পুরোপুরি ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। মার্চ মাসের মধ্যেই সরকার বার্ষিক ব্যাংক ঋণ লক্ষ্যমাত্রার ৯৮.৫ শতাংশ টাকা তুলে নিয়েছে। ফলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমে ৪.৭২ শতাংশে নেমেছে, যা নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্যাংকিং খাতের নাজুক পরিস্থিতি উল্লেখ করে প্রতিবেদনে জানানো হয়, সার্বিক মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত ঐতিহাসিক সর্বনিম্ন পর্যায়ে (–২.৯৩%) নেমে এসেছে। বিশেষ করে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। কাগজে-কলমে খেলাপি ঋণ কিছুটা কমলেও এটি মূলত ঋণ পুনঃতফসিলীকরণের ফল, যা প্রকৃত সংকটকে আড়াল করছে বলে সিপিডি মন্তব্য করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি উত্তরণে সিপিডি বাজার মনিটরিং জোরদার করা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত ব্যাংকিং সংস্কার এবং রাজস্ব আদায়ের আধুনিকায়নসহ বেশ কিছু সুপারিশ পেশ করেছে। সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়েছে যে, কেবল আইনি সংস্কারের খসড়া তৈরি করলেই হবে না, প্রভাবশালী মহলের বাধা কাটিয়ে তা কার্যকর করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।




