ইউরোপে কমলেও যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েছে

সংগৃহীত ছবি
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে রপ্তানি কমলেও সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানি বেড়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-জুন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ৭৭৪ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধির হার ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ফলে দেশের মোট পোশাক রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ১৯ দশমিক ১৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০ দশমিক ০১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, ইউরোপের বাজারে পিছিয়ে পড়লেও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে আরও সুসংহত।
ইপিবির তথ্যমতে, সার্বিকভাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম। এর অন্যতম কারণ হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে ১৯ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসা। এর ফলে মোট পোশাক রপ্তানিতে ইইউর অংশ ৫০ দশমিক ১০ শতাংশ থেকে কমে ৪৯ দশমিক ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পণ্যের ধরন অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে নিট পোশাক রপ্তানি ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও কানাডার বাজারেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে। যুক্তরাজ্যে শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশ এবং কানাডায় ৩ দশমিক ২০ শতাংশ রপ্তানি বেড়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ৩৫ শতাংশেরও বেশি আসে এই তিনটি বাজার থেকে। তবে অপ্রচলিত বাজারগুলোতে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জিত হয়নি। জাপান, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মতো অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে ৬ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।
এ বিষয়ে বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বললেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা। বিশ্ববাজারে চাহিদা দুর্বল থাকা এবং নানা অনিশ্চয়তার মধ্যেও মার্কিন ক্রেতাদের আস্থা বজায় রয়েছে। তবে শুধু প্রবৃদ্ধি নয়, বাজার অংশীদারত্ব আরও বাড়াতে উচ্চমূল্যের পণ্য, দ্রুত সরবরাহ সক্ষমতা এবং প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদনে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা গেলে আগামীতে এই বাজারে রপ্তানি আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।’
‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় বাজারে প্রবৃদ্ধি কিছুটা স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য নতুন বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিদ্যমান প্রধান বাজারগুলোতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই’ বলেও যোগ করলেন তিনি।




