পে-স্কেল এ বছরই বাস্তবায়ন, পর্যালোচনা হবে আরও

আরও পর্যালোচনা হলেও এ বছরই বাস্তবায়ন হবে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনকাঠামো (পে-স্কেল)। গতকাল সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে বিচারকদের পে-স্কেল পর্যালোচনা-সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
একই দিন সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুক প্রকাশ পায়। সেখানে বলা হয়েছে, প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। দুই ধাপে তা বাস্তবায়িত হবে। এর মধ্যে প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা কার্যকর হতে পারে। সচিব কমিটির সব সদস্য চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেছেন।
গত রবিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেছিলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ‘যেকোনো মুহূর্তে’ নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হবে। তবে এতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে সাধারণ জনগণকে বিপদে ফেলবে বলে তিনি মনে করছেন না।
সংশ্লিষ্টদের মতে পে-স্কেল নিয়ে গত দুদিন বেশ আলোচনা চলছে। অর্থমন্ত্রী সর্বশেষ বলেছেন, ‘পে কমিশনের অনেক দিক আছে, আমরা সব বিবেচনা করছি। আজকে অনেক আলোচনা হয়েছে। পরে আমরা আবার বসব। যখন বেতনকাঠামো চূড়ান্ত হবে, তখন আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব। পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত যখন আসবে, তখন আপনাদের সঙ্গে তুলে ধরব।’
এক সাংবাদিক জানতে চান, নতুন পে-স্কেল চলতি বছরেই বাস্তবায়নের সম্ভাবনা আছে কি না। জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বললেন, ‘সময়মতো হবে। অবশ্যই হবে। এ বছরের মধ্যেই হবে। সবই হবে, কিন্তু এখানে তো অধিকতর আলোচনার বিষয় আছে।’ এদিনের বৈঠক প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বললেন, ‘আজকে একটা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে; আরও দিক আছে। যখন পূর্ণাঙ্গ হবে, তখন আপনাদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।’
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ২০ দিন আগে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করে নবম জাতীয় বেতন কমিশন।
বেতন কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়নে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ অর্থ বরাদ্দ রাখার কথা বলেছিলেন। পে কমিশন যে সুপারিশ দিয়েছে, তা পরীক্ষা করার জন্য কমিটি করে দেওয়ার কথাও তিনি সে সময় বলেছিলেন।
তবে নির্বাচন-পরবর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজে হাত দেওয়ায় অর্থের প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
বিগত সরকারের বাজেটে সেই অর্থের সংস্থান না থাকায় নতুন করে বরাদ্দ পেতে বাড়তি বেতন বাস্তবায়নে যে অর্থ রাখা হয়েছিল, সেখান থেকে খরচের কথা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছিল।
তা ছাড়া, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানিসংকটের মধ্যে বাড়তি দামে জ্বালানি ও নিত্যপণ্য আমদানিতেও খরচ বাড়ছে। এরপর নতুন অর্থবছরের বাজেটে বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও আদতে এর সুযোগ থাকছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের-আইএমএফের কাছে সরকারের নতুন ঋণ কর্মসূচি শুরুর আগ্রহের আলোচনার মধ্যে তাদের তরফে বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের অর্থ সংকুলান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
২০১৩ সালে অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের ১২ বছর পরে ২০২৫ সালে নতুন বেতন কমিশন গঠিত হয়। গত ২১ জানুয়ারি কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করে।






