অর্থবছর ২০২৬-২৭
কড়াকড়িতেও প্রকল্পের ছড়াছড়ি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রকল্প যাচাই-বাছাইয়ে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করেছিল বর্তমান সরকার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফল শূন্য। কারণ আগের সরকারের নেওয়া চলমান এবং নতুন মিলে আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রকল্প সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৩ হাজার ১৬৪টিতে। চলতি অর্থবছরে যা ছিল ২ হাজার ৫১০টি। এক্ষেত্রে প্রকল্প সংখ্যা কমা তো দূরের কথা, উল্টো বেড়েছে ৬৫৪টি।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, রাজনৈতিক সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জনআকাঙ্ক্ষা পূরণের কারণে বেড়েছে। ফলে প্রকল্পের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে এডিপি। এর মধ্যে ৩ লাখ কোটি টাকার বরাদ্দ অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘প্রকল্প বেশি হলে ব্যবস্থাপনার সমস্যা হয়। বেশি প্রকল্প পরিচালক (পিডি) লাগে বেশি, বাস্তবায়নের জন্য বেশি লোকবল দরকার হয়। তদারকির ক্ষেত্রেও বেশি জনবল প্রয়োজন। পাশাপাশি বরাদ্দও বেশি লাগে। সব মিলিয়ে জটিলতা বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। সরকার যদিও প্রথম দিকে বলেছিল ব্যাপক যাচাই-বাছাই করেই প্রকল্প নেওয়া হবে; কিন্তু যখন একটি রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসে তখন মানুষের চাহিদা যেমন বাড়ে, তেমনি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বা এজেন্ডাভিত্তিক প্রকল্পও নিতে হয়। এক্ষেত্রে দেখার বিষয় হলো, বাছাইয়ে মানদণ্ডটি কী। জনকল্যাণ, না কি রাজনৈতিক বিবেচনা।’
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরের মোট প্রকল্পগুলোর মধ্যে বরাদ্দসহ প্রকল্প রয়েছে ১ হাজার ১৫৩টি। এর মধ্যে বিনিয়োগ ৯৭৬, সম্ভাব্য সমীক্ষার ২৩, কারিগরি সহায়তা ১০৯ এবং নিজস্ব অর্থায়নের প্রকল্প আছে ৪৫টি। এ ছাড়া এডিপি বইয়ের সবুজ পাতায় বরাদ্দ ছাড়া অনুমোদনহীন প্রকল্প রয়েছে ১ হাজার ২৮২টি। এর মধ্যে আবার সরকারি তহবিলের অর্থায়নের বাস্তবায়নের জন্য ১ হাজার ৬৪টি, বৈদেশিক ঋণের ১৭৯টি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের নিজস্ব তহবিলের অর্থের প্রকল্প রয়েছে ৪০টি।
পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) প্রকল্প আছে ৮০টি, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থে বাস্তবায়নের জন্য ১৪৮টি, চলতি মাসেই মেয়াদোত্তীর্ণ হবে এমন ৩৯২টি চলমান প্রকল্প যুক্ত হয়েছে এডিপিতে।
এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ৩৪৪টি, সম্ভাব্যতা স্বশিক্ষার নয়টি, কারিগরি সহায়তার ১৮টি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার ২১টি প্রকল্প রয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা না হওয়ায় এমন ৩২টি প্রকল্প যুক্ত হয়েছে আগামী অর্থবছরের এডিপিতে। পাশাপাশি বৈদেশিক অর্থায়নের সুবিধায় অনুমোদনহীনভাবে রাখা হয়েছে ৭৭টি উন্নয়ন প্রকল্প।
পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আগামী অর্থবছরের এডিপিতে যুক্ত হওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার উন্নয়ন, চট্টগ্রাম জোন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, মাতারবাড়ী ১২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং প্রোগ্রাম অব অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন প্রজেক্ট। এ ছাড়া যমুনা নদী টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রকল্প-১।
বৈদেশিক সহায়তার জন্য যুক্ত করা কয়েকটি প্রকল্প হচ্ছে, মাতারবাড়ী ২৪০০ মেগাওয়াট আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প দ্বিতীয় পর্যায়। যমুনা নদীর ওপর দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ। নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা ও জয়দেবপুর পর্যন্ত সেকশনে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন প্রবর্তন। ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত রেলের কর্ডলাইন নির্মাণ। ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (মেট্রোরেল লাইন-৫) সাউদার্ন রুট এবং কনস্ট্রাকশন অব ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (মেট্রোরেল-২)।
পিপিপির আওতায় কয়েকটি উল্লেখযোগ্য মেগা প্রকল্প হলো— মাতারবাড়ী ল্যান্ড বেইজড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ, কনস্ট্রাকশন অব ঢাকা আউটার রিংটার রিংরোড, কমলাপুর মাল্টিমোডাল হাব নির্মাণ, কনস্ট্রাকশন অব বে-টার্মিনাল এবং ঢাকা ইস্ট ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প। আরও রয়েছে দ্বিতীয় পদ্মা মাল্টিপারপাস ব্রিজ এটি পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ প্রকল্প।




