এআই প্রযুক্তিতে কর্মক্ষেত্রে বড় রূপান্তর

সংগৃহীত ছবি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত বিস্তার এবং কর্মীদের প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া চাহিদার কারণে দেশের কর্মক্ষেত্রে এক বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে, যা অনেক প্রতিষ্ঠানের আগাম ধারণাকেও ছাপিয়ে গেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত মেটলাইফ বাংলাদেশের দ্বিতীয় ‘এমপ্লয়ি বেনিফিটস ট্রেন্ডস স্টাডি (ইবিটিএস)’ শীর্ষক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, প্রযুক্তির প্রয়োগ থেকে শুরু করে আর্থিক নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতার প্রশ্নে কর্মক্ষেত্র এখন এক নতুন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ে কর্মীরাই বর্তমানে বেশি এগিয়ে আছেন। জরিপে অংশ নেওয়া কর্মীদের ৫৫ শতাংশই প্রতিদিনের দাপ্তরিক কাজে এআই ব্যবহার করছেন এবং এদের ৯১ শতাংশ মনে করেন যে এআই তাদের কর্মদক্ষতা ও কাজের অভিজ্ঞতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অথচ এর বিপরীতে মাত্র ৫৮ শতাংশ নিয়োগদাতা কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে উৎসাহ বা প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছেন। ফলে দেখা যাচ্ছে, প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতির চেয়ে কর্মীদের এআই গ্রহণের গতি অনেক বেশি দ্রুত।
একই সঙ্গে কর্মীদের মধ্যে আর্থিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতার হারও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। দৈনন্দিন আর্থিক দুশ্চিন্তা কাজের কর্মদক্ষতায় প্রভাব ফেলে বলে মনে করেন ৭২ শতাংশ কর্মী, যা আগের বছর ছিল ৫৬ শতাংশ। পাশাপাশি কোনো বড় ধরনের অপ্রত্যাশিত আর্থিক সংকট দেখা দিলে ৭২ শতাংশ কর্মীই নিয়োগদাতার প্রত্যক্ষ সহায়তা প্রত্যাশা করেন। চাকরি নিয়ে সার্বিক সন্তুষ্টির হার গত বছরের ৭৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৩ শতাংশে পৌঁছালেও, ব্যক্তিগত চাহিদাভিত্তিক সুবিধা বা কাস্টমাইজড বেনিফিটসের প্রতি আগ্রহ ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়ে ৮৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
বীমা ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সুবিধা প্রতিষ্ঠানের প্রতি কর্মীদের আনুগত্য বাড়াতে মূল ভূমিকা রাখছে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। তবে অবসরজীবনের প্রস্তুতি এখনো একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে আছে। ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী কর্মীদের মধ্যে যাদের কোনো সুনির্দিষ্ট অবসর পরিকল্পনা নেই, তাদের হার গত বছরের ৫৩ শতাংশ থেকে বেড়ে এবার ৮১ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। অন্যদিকে, ৮৫ শতাংশ নিয়োগদাতা স্বীকার করেছেন যে কর্মীদের কল্যাণমূলক সুবিধা প্রতিষ্ঠানের ইতিবাচক কর্মসংস্কৃতি তৈরিতে বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
২০২৬ সালে পরিচালিত মেটলাইফের এই বিস্তৃত গবেষণায় তৈরি পোশাক, ব্যাংকিং, এফএমসিজি, টেলিযোগাযোগ, খুচরা বিক্রয়, উৎপাদন, এনজিও ও প্রযুক্তি খাতের মোট ৭০৯ জন প্রতিনিধি অংশ নেন, যার মধ্যে ৫৮৩ জন কর্মী এবং ১২৬ জন নিয়োগদাতা ছিলেন।
গবেষণার ফল নিয়ে মেটলাইফ বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আলা আহমদ বলেছেন, ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্র শুধু নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের বিষয় নয়; কাজের জগতে পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ যেন প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়, সেটি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই গবেষণায় নিয়োগদাতা ও কর্মী উভয়ের দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে, যা প্রযুক্তি, আর্থিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের সার্বিক সমন্বয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত ও সংকট-সহনশীল কর্মীবাহিনী গঠনে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের সহায়তা করবে।
সার্বিকভাবে গবেষণার ফল নির্দেশ করছে, বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্র এমন এক নতুন ধাপে প্রবেশ করছে যেখানে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি কর্মীদের সার্বিক সুস্থতা ও আর্থিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়াই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সাফল্য ও কর্মী ধরে রাখার প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।



