কিস্তিতে গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল শোধের সুবিধা চায় বিকেএমইএ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দুর্ঘটনা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট সাম্প্রতিক গ্যাস-জ্বালানি সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। গতকাল শনিবার সংগঠনটির নারায়ণগঞ্জ জোনের সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। সভায় নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন নিট পোশাক কারখানার মালিকরা চলমান গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, আর্থিক ক্ষতি এবং ব্যাংকঋণ পরিশোধে তৈরি হওয়া চাপের কথা তুলে ধরেন।
ব্যবসায়ীরা বলেছেন, প্রায় এক মাস উৎপাদন ব্যাহত বা বন্ধ থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠানই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় নিয়মিত বকেয়া বিলের পাশাপাশি জুন-জুলাই মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানালেন তারা। একই সঙ্গে বকেয়া বিলের কারণে সংকটকালে কোনো গ্রাহকের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সভায় অবিলম্বে সব ধরনের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার দাবি জানানো হয়। এসব সংযোগের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, অবৈধ সংযোগ বন্ধ করা গেলে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি সিস্টেম লসও কমবে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পাবলিক ট্রান্সপোর্টের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরবরাহ অব্যাহত রেখে ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়িতে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখার দাবি জানানো হয়। এতে শিল্প ও জরুরি খাতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।
এ ছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে গ্যাস-জ্বালানি সরবরাহের সর্বশেষ পরিস্থিতি জনগণ ও ব্যবসায়ীদের জানানোর দাবি করা হয়। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করা হলে কারখানা মালিকরা উৎপাদন ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সমন্বয় করতে পারবেন। এতে অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি কমবে।
সভায় ব্যাংকঋণের খেলাপি ঘোষণার সময়সীমা বাড়ানোর দাবিও উঠে আসে। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, রপ্তানি বাণিজ্য আগে থেকেই বৈশ্বিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে চাপে রয়েছে। তাই খেলাপি ঋণ হিসেবে ঘোষণার বর্তমান ছয় মাসের সময়সীমা বাড়িয়ে ১২ মাস করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানালেন তারা।






