অর্থ উপদেষ্টা
৪১২ কোটি ডলার বাড়তি ব্যয়
- জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ে চাপে অর্থনীতি

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে জ্বালানি খাতে গত আট মাসে অতিরিক্ত ৪১২ কোটি ডলার ব্যয় করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এতে অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাতারবাড়ীকে জ্বালানি হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার। পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
গতকাল রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএর ‘ইএসজি প্ল্যাটফর্ম’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন এসব কথা। তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব মোকাবিলা করেও সরকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে কাজ করছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়ানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিও এখন গুরুত্বপূর্ণ।
বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নে নীতির ধারাবাহিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে উপদেষ্টা বলেছেন, করনীতিতে পাঁচ বছরের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে পারবেন। ব্যবসা পরিচালনার প্রতিবন্ধকতা কমানো, অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাও সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে।
তিনি আরও বলেছেন, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের সংকট ও জ্বালানির বাড়তি ব্যয় অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উৎপাদনশীল বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি।
এদিকে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির সময় ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর উদ্যোগ চলছে বলে জানিয়েছেন তিতুমীর। এ বিষয়ে জাতিসংঘের সদস্যদেশ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমর্থন আদায়ে কাজ করছে সরকার। তার মতে, উত্তরণ টেকসই করতে অর্থনৈতিক সংস্কার, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বললেন, সংগঠনের সদস্য কারখানাগুলোতে পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসন-সংক্রান্ত (ইএসজি) মানদণ্ড অনুসরণ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৩২৬টি প্রতিষ্ঠান নিয়ে নতুন ইএসজি প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে এই সংখ্যাটি এখনো যথেষ্ট নয়।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও কার্বন নিঃসরণ সম্পর্কে জানার আগ্রহ বাড়ছে। ফলে পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে ইএসজি মানদণ্ড অনুসরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলারও এই উদ্যোগকে উৎপাদন খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর সহায়ক বলে উল্লেখ করেছেন।



