শেয়ারভিত্তিক আবাসন ব্যবসা বন্ধ চায় রিহ্যাব

ছবি: আগামীর সময়
জমির অংশ বা শেয়ার বিক্রি করে ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়িক মডেল অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে আবাসন খাতের শীর্ষ সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।
সংগঠনটি সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে, এ ধরনের অনিশ্চিত ব্যবসায়িক কাঠামোর কারণে ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ হাজার নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং এভাবে চলতে থাকলে আগামী দুই-তিন বছরে অন্তত ৫০ হাজার কোটি টাকা আইনি জটিলতায় আটকে যাওয়ার মারাত্মক আশঙ্কা রয়েছে।
আজ রবিবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাব সভাপতি ড. আলী আফজাল এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, দেশের আবাসন খাতে উদ্বেগজনকভাবে একশ্রেণির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়িক মডেল বিস্তার লাভ করছে, যেখানে জমির নির্দিষ্ট অংশ বা শেয়ার বিক্রি করে ভবিষ্যতে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের প্রলোভন দেখানো হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রকল্পে জমির সুনির্দিষ্ট মালিকানা, অনুমোদিত নকশা, নির্মাণ সক্ষমতা এবং আইনি নিশ্চয়তা স্পষ্ট থাকে না। ফলে ক্রেতারা মোটা অংকের অর্থ বিনিয়োগ করেও সময়মতো ফ্ল্যাট পান না কিংবা বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্যে উঠে আসে, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন আদালতে এ সংক্রান্ত প্রায় ৯ হাজার ৮২৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যার সঙ্গে আনুমানিক ১২ হাজার কোটি টাকার খাতসংশ্লিষ্ট আর্থিক ঝুঁকি জড়িয়ে আছে। রিহ্যাব নেতারা জানান, এসব অনিয়ন্ত্রিত মডেলে গড়ে ওঠা প্রায় ১০০টি ভবন পরিদর্শন করলে দেখা যাবে তার মধ্যে ৯৯.৯৯ শতাংশ ভবনই নকশা বা বাস্তব নির্মাণ শর্তের ব্যত্যয় ঘটিয়ে তৈরি হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রিহ্যাবের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ৬ দফা সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়।
সংগঠনটি জমির শেয়ার বিক্রি করে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতিনির্ভর অনিয়ন্ত্রিত মডেল অবিলম্বে নিষিদ্ধ বা কঠোর আইনি নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে প্রকল্পের জমিসংক্রান্ত আইনগত অধিকার, নিবন্ধন ও অনুমোদিত নকশা নিশ্চিত না করে অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ বন্ধের দাবি জানানো হয়। এছাড়া শেয়ারভিত্তিক এসব ভবনে জরুরি ভিত্তিতে নিরপেক্ষ কারিগরি ও আইনি নিরীক্ষা চালানো, ভুয়া অনুমোদন ও অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, নির্মাণ ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব নিশ্চিত করা এবং পেশাদার প্রকৌশলী ও স্থপতিদের মাধ্যমে মানসম্মত তদারকি সুনিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
রিহ্যাব সভাপতি স্পষ্ট করেন যে সংগঠনটি কোনো বৈধ যৌথ মালিকানা বা স্বচ্ছ বিনিয়োগের বিরোধিতা করছে না। তবে যেসব ব্যবসায়িক মডেলে ক্রেতার অর্থের বিপরীতে সুনির্দিষ্ট ফ্ল্যাট নিশ্চিতের ব্যবস্থা থাকে না কিংবা সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়, সেসব অপতৎপরতা বন্ধে কার্যকর প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব আব্দুর, ভাইস প্রেসিডেন্ট- ২ আবু খালিদ মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট-৩ এ. এফ. এম. ওবায়দুল্লাহ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) ড. মো: হারুন অর রশিদ সহ পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।



