বিদেশি ঋণনির্ভরতা কমানো হচ্ছে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
এত দিন পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে বৈদেশিক ঋণনির্ভরতা ছিল। এখন সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে সরকার। এজন্য ২ হাজার ৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। ‘পল্লী সড়কে রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান’ নামের এ প্রকল্পটি বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে হতে যাওয়া বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আকতার আগামীর সময়কে বললেন, সরকার অনেক ভালো কিছু করতে চাচ্ছে। এখন প্রয়োজন সবার সহযোগিতা। এরই অংশ হিসেবে পল্লী এলাকার সড়কগুলোর সংস্কার ও উন্নয়নে বড় প্রকল্প একনেকে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী উন্নয়নকে ছড়িয়ে দেওয়া উদ্যোগের বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ গ্রামপ্রধান একটি দেশ। এর অধিকাংশ জনগোষ্ঠীই গ্রামাঞ্চলে বাস করে। কৃষিপ্রধান এ দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি বিকাশে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে উন্নত ও নিরবচ্ছিন্ন গ্রামীণ পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামীণ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে গ্রামীণ সড়কগুলো সারা বছর চলাচল উপযোগী রাখতে নতুন নির্মাণের পাশাপাশি প্রয়োজন সড়কের নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল রক্ষণাবেক্ষণ। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে গ্রামীণ সড়কে নির্বিঘ্ন যানচলাচল নিশ্চিত করতে ১৯৮৩ সালে কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির (সিডা) সহায়তায় কেয়ার বাংলাদেশের মাধ্যমে সাতটি ইউনিয়নে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ‘পল্লী রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি (আরএমপি)’ শুরু হয়। ১৯৮৪ সালে এই প্রোগ্রাম সিডার সহায়তায় দেশের ১ হাজার ৮০০টি ইউনিয়নে বিস্তৃত হয়। পরে যা হাওর ও পার্বত্য অঞ্চল ছাড়া দেশের চার হাজার ছয়টি ইউনিয়নে সম্প্রসারিত হয়। এরপর ১৯৯৫-২০০২ মেয়াদে প্রকল্পটি এলজিইডি ও কেয়ার বাংলাদেশ যৌথভাবে বাস্তবায়ন করে। ২০০৩-০৭ মেয়াদে প্রকল্পটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এলজিইডি ও কেয়ার বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত হয়। পরে ২০০৮-১৩ মেয়াদে ‘রুরাল মেইনটেন্যান্স প্রোগ্রাম (আরএমপি)’-এর পরিবর্তে ‘রুরাল এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড রোড মেইনটেন্যান্স প্রোগ্রাম (আরইআরএমপি)’ শিরোনামে জিওবি অর্থায়নে এলজিইডি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। এরপর আরইআরএমপি-২ প্রকল্পটি ২০১৩-১৮ মেয়াদে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জিওবি যৌথ অর্থায়নে এবং আরইআরএমপি-৩ প্রকল্পটি সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে ২০১৯-২৪ মেয়াদে এলজিইডি বাস্তবায়ন করে। এর আগে গৃহীত প্রকল্পগুলোর সাফল্য বিবেচনায় নিয়ে সহজ এবং নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা, কৃষি-অকৃষিজাত পণ্যের বাজারজাতকরণের সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের কাজে লাগিয়ে দারিদ্র্য কমানোসহ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে স্থানীয় সরকার বিভাগ হতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এ প্রকল্পটির আওতায় ৯১ হাজার ৫৬০ কিলোমিটার পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। এর সঙ্গে ৪৫ হাজার ৭৮০ জন দুস্থ নারীর কর্মসংস্থান করা হবে।
প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের দ্বিতীয় অধ্যায়ের দারিদ্র্য নিরসন, কৃষি উন্নয়ন ও দেশব্যাপী কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তৃতীয় অধ্যায়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ‘লাস্ট মাইল’ সংযোগ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। প্রকল্পটির কার্যক্রম এর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। এ ছাড়া, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের (এসডিজি) অভীষ্ট-১ সর্বত্র সব ধরনের দারিদ্র্যের অবসান, অভীষ্ট-২ টেকসই কৃষির প্রসার এবং অভীষ্ট-৯ টেকসই শিল্পায়ন, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি এবং সাশ্রয়ী, টেকসই ও অভিঘাত-সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উন্নয়ন নিশ্চিত করার সঙ্গে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ।
পরিকল্পনা কমিশন জানায়, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর প্রকল্পটির ওপর গত ১ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। ওই সভার সিদ্ধান্ত পরিপালন সাপেক্ষে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) মাহমুদুল হোসাইন খান বলেছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পল্লী সড়কগুলো সারা বছর চলাচল উপযোগী রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কাজে নিয়োজিত দুস্থ নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।




