বাজেটে নতুন ১০ উদ্যোগ
- ব্লু ইকোনমি সম্পদ আহরণে বরাদ্দ ১০০ কোটি
- সমন্বিত স্বাস্থ্য-বিজ্ঞান গবেষণা তহবিল ১০০ কোটি
- স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলা তহবিল ২ হাজার কোটি
- জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা তহবিল ১০০ কোটি
- পরিচালন ঋণের জন্য বরাদ্দ ১৭ হাজার কোটি
- ক্রিয়েটিভ ইকোনমির জন্য বরাদ্দ ৩০০ কোটি টাকা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেওয়া হয়েছে ১০টি বিশেষ উদ্যোগ। বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার বাজেট বক্তৃতায় তুলে ধরলেন এসব তথ্য।
তিনি সংসদকে জানালেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে সহায়তায় স্টার্টআপ মূলধন, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য রাখা হয়েছে বরাদ্দ। তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে বাজেটে ‘স্টার্টআপ স্যান্ডবক্স’ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে নতুন উদ্যোক্তারা ৯ বছরের কর অবকাশ এবং শূন্য শতাংশ টার্নওভার কর সুবিধা পাবেন।
ব্লু ইকোনমি সম্পদ আহরণে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে গবেষণা তহবিল। উৎসগুলোয় ব্লু ইকোনমির বিস্তারিত বর্ণনা না থাকলেও সরকারের মূল লক্ষ্য সমুদ্র সম্পদের বিজ্ঞানসম্মত ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন। এই গবেষণা তহবিল মূলত ব্যবহৃত হবে সামুদ্রিক মৎস্য, খনিজ সম্পদ এবং পর্যটন খাতের সম্ভাব্যতা যাচাই ও টেকসই ব্যবস্থাপনার কাজে।
সমন্বিত স্বাস্থ্য-বিজ্ঞান গবেষণা তহবিল করা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ও নতুন রোগের চিকিৎসা উদ্ভাবনে এই তহবিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে স্বাস্থ্য খাতে। বাজেটে জনকল্যাণমূলক ১১টি স্বাস্থ্য সংস্থাকে কর রেয়াত সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, এই গবেষণা তহবিল তা আরও শক্তিশালী করবে।
স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলা তহবিল বরাদ্দ হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকা। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে বাজেটে কিডনি ডায়ালাইসিস এবং হার্টের রিংয়ের ওপর ভ্যাট ও শুল্ক মওকুফ করা হয়েছে। এই তহবিলটি মূলত মহামারি বা জরুরি স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলা এবং গরিব রোগীদের দোরগোড়ায় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেবে।
১০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা তহবিল। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরকার জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য শতাংশ কর হার প্রস্তাব করেছে।
পরিচালন ঋণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। এটি ব্যবহৃত হয় সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও প্রকল্পের দৈনন্দিন ব্যয় এবং জরুরি আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে। বাজেটে বিনিয়োগ-উৎপাদন চক্র গতিশীল রাখার যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, এই পরিচালন ঋণ তা বাস্তবায়নে পালন করবে সহায়ক ভূমিকা।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে আর্থিক সহায়তার জন্য রাখা হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকা। এসএমই খাতের বিকাশে ৫০-৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করমুক্ত রাখা হয়েছে। এই সহায়তামূলক তহবিল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান এবং তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে নিশ্চিত করবে কারিগরি সহায়তা।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন তহবিল করা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎ খাতের যন্ত্রপাতিতে শুল্ক ছাড় এবং গ্রাহক পর্যায়ে কর রেয়াতের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই তহবিল মূলত বিকল্প জ্বালানি উৎসের প্রসার এবং গ্রিন এনার্জি প্রজেক্টের উদ্ভাবনী কাজে ব্যয় হবে।
ক্রিয়েটিভ ইকোনমির জন্য ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে একটি আন্তর্জাতিক মানের ‘ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে গিটার, পিয়ানো বা ভায়োলিনের মতো বাদ্যযন্ত্র এবং সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরার যন্ত্রাংশের ওপর থেকে শুল্ক তুলে নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এই টাকা ব্যবহৃত হবে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও শিল্পীদের দক্ষতা উন্নয়নে।
প্রবাসী বাংলাদেশি জনশক্তির সুরক্ষা ও প্রবাসী কর্মীদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিতে একটি বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’ প্রবর্তন করছে সরকার। প্রবাসী কল্যাণ সেবা, বীমা, ব্যাংকিং সুবিধা এবং জরুরি সহায়তার সঙ্গে সংযুক্ত হবে কার্ডটি। বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে এরই মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ব্যয় নির্বাহ করবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।






