ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে ফররুখ আহমদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা

সংগৃহীত ছবি
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি ফররুখ আহমদের ১০৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির রেজাকুল হায়দার হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে আলোচনা সভা। উপাচার্য প্রফেসর ড. ফরিদ আহমদ সোবহানীর সভাপতিত্বে আয়োজিত সভার প্রতিপাদ্য ছিল, 'রাত পোহাবার কত দেরী পাঞ্জেরী?: ফররুখের কাব্যলোকের অন্বেষণ'।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার। ফররুখ আহমদের কবিতায় মানবতাবাদ, মুসলিম পুনর্জাগরণের চেতনা এবং শিল্পসৌন্দর্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষ্য, শতবর্ষ পেরিয়েও ফররুখ আহমদের সাহিত্যকর্ম সমান প্রাসঙ্গিক আজও। কবির সাহিত্যকর্মের গভীরতা ও ব্যাপকতা তুলে ধরার পাশাপাশি তার জীবন ও সাহিত্য নিয়ে চলমান গবেষণার বিষয়েও আলোকপাত করেন তিনি। আবদুল হাই শিকদার আরও উল্লেখ করেন, ফররুখ আহমদের সাহিত্য নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের আত্মপরিচয় ও সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী ফররুখ আহমদকে মুসলিম রেনেসাঁ ও ইসলামী জাগরণের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে অভিহিত করেন। শিক্ষার্থীদের ফররুখের সাহিত্যকর্ম পাঠ ও গবেষণায় উৎসাহিত করেন এবং বাংলা সাহিত্যে তার অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক মো. শামসুল হুদা। ফররুখ আহমদের কাব্যচর্চার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং এ ধরনের সাহিত্য-সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সূচনা হয় অনুষ্ঠানের। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. আবুল বাশার খান। এ সময় কবির জীবন ও সাহিত্যকর্মের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মাহফুজুর রহমান। অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও সঞ্চালক ছিলেন ইংরেজি বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক রফিউসসান। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন অফিস অব স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড প্লেসমেন্টের উপপরিচালক কে. এম. মনিরুল ইসলাম।
আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, কর্মকর্তা, সাহিত্যপ্রেমী ও গুণীজনেরা উপস্থিত ছিলেন। এ উপলক্ষে ফররুখ আহমদের কবিতা আবৃত্তি এবং তার জীবন ও কর্মভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। আয়োজকরা মনে করেন, নতুন প্রজন্মের কাছে কবির জীবন, সাহিত্য ও চিন্তাধারা তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে অনুষ্ঠানটি।




