কার্টুনে সড়ক নিরাপত্তার বার্তা, গ্যালারিতে দর্শনার্থীদের ভিড়

সংগৃহীত ছবি
সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে কার্টুনকে মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ও সুপারঅ্যাপ পাঠাও। রাজধানীর দৃক গ্যালারিতে আয়োজিত বিশেষ কার্টুন প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে ইতিবাচক আচরণগত পরিবর্তন আনতে ‘সেফ থাকি, সেফ রাখি’ শীর্ষক মাসব্যাপী কার্টুন প্রতিযোগিতার নির্বাচিত সেরা কাজ নিয়ে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
গত ২০ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত চলা এ প্রতিযোগিতায় হেলমেট ব্যবহার, ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলা এবং যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো কার্টুনের মাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়।
সচেতনতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ)-তে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশেষ আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি একটি স্কুলে শিশুদের জন্য এবং ‘কার্টুন পিপল’-এর সহযোগিতায় গুলশান-২ এলাকায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে লাইভ ড্রয়িং অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।
দেশজুড়ে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় শিল্পী ও সৃজনশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৪৫০টির বেশি কার্টুন জমা পড়ে। সেখান থেকে নির্বাচিত সেরা কার্টুনগুলো নিয়ে গত ২৬ জুন দৃক গ্যালারিতে প্রদর্শনী শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা কার্টুনগুলোর সৃজনশীলতা ও সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বার্তার প্রশংসা করেন।
পাঠাও-এর সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর ফাহিম আহমেদ বলেন, ২০১৫ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি লাখো মানুষের যাত্রার অংশ হয়ে উঠেছে। সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘সেফ থাকি, সেফ রাখি’ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে কার্টুনের মতো শক্তিশালী ও সৃজনশীল মাধ্যম ব্যবহার করে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি কার্টুনিস্ট আহসান হাবিব বলেছেন, ‘একটি কার্টুনের পেছনে দীর্ঘ চিন্তা ও সৃজনশীলতার প্রক্রিয়া কাজ করে। এ আয়োজনের কার্টুনগুলোতে পেশাদার ও অপেশাদার শিল্পীরা একক ফ্রেমের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা অত্যন্ত কার্যকরভাবে তুলে ধরেছেন।’
প্রতিযোগিতার বিচারক ছিলেন কার্টুনিস্ট আহসান হাবিব এবং শিল্পী মোরশেদ মিশু ও রাশাদ ইমাম তন্ময়। বিচারকদের রায়ে বিজয়ী ছয়জনকে মোট ১ লাখ ৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। প্রথম পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা পেয়েছেন রাইদ হোসেন। দ্বিতীয় পুরস্কার ২৫ হাজার টাকা পেয়েছেন নাতাশা জাহান এবং তৃতীয় পুরস্কার ১৫ হাজার টাকা পেয়েছেন ফরিদুর রহমান রাজীব। এছাড়া চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থান অধিকারী জুরিস আল মাহি, শওকত রাসাদিন শওখিন এবং মাহতাব রশিদ প্রত্যেকে ৫ হাজার টাকা করে পুরস্কার পাচ্ছেন।
২৭ জুন দুপুর ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলা প্রদর্শনীতে কার্টুন প্রদর্শনীর পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য দেয়ালচিত্রে অংশগ্রহণ, সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক আলোচনা, নাটক, সরাসরি ক্যারিকেচার আঁকার সুযোগ, বিভিন্ন গেম এবং ফটো বুথের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আয়োজকরা সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে প্রদর্শনীটি ঘুরে দেখার জন্য সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত পাঠাও বর্তমানে রাইড শেয়ারিং, ফুড ডেলিভারি ও ই-কমার্স লজিস্টিকস সেবায় দেশের অন্যতম শীর্ষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। প্রতিষ্ঠানটির ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি ব্যবহারকারী, ৪ লাখ পাঠাও হিরো ও ডেলিভারি এজেন্ট, ২ লাখ মার্চেন্ট এবং ১৫ হাজার রেস্টুরেন্ট রয়েছে। প্ল্যাটফর্মটি দেশে ৬ লাখের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রেখেছে।




