নগদ-এনআরবি ব্যাংকের কৌশলগত অংশীদারত্বের চুক্তি

সংগৃহীত ছবি
গ্রাহকদের আর্থিক লেনদেনের সেবা আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে কৌশলগত অংশীদারিত্বের চুক্তি করেছে ডাক বিভাগের মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নগদ ও এনআরবি ব্যাংক পিএলসি।
গতকাল সোমবার রাজধানীর গুলশানে এনআরবি ব্যাংকের করপোরেট প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির মাধ্যমে নগদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশের যেসব এলাকায় এনআরবি ব্যাংকের কোনো শাখা নেই, সেসব এলাকাতেও গ্রাহকদের ব্যাংকিং সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ এবং এনআরবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারেক রিয়াজ খান।
চুক্তির আওতায় এনআরবি ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিট্যান্স তাৎক্ষণিকভাবে নগদ ওয়ালেটে পৌঁছে দেওয়া হবে। ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাহকরাও ২৪ ঘণ্টা রেমিট্যান্স গ্রহণ ও ব্যবহার করতে পারবেন। পাশাপাশি ন্যানো লোন, করপোরেট কালেকশনসহ আরও বিভিন্ন ডিজিটাল আর্থিক সেবার পরিধি সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করবে দুই প্রতিষ্ঠান।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, ফিনটেক আগামী দিনে লেনদেনের প্রথাগত পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। সময়ের চাহিদা পূরণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নগদ সেই চাহিদা পূরণে কাজ করছে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখছে।
এনআরবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রিয়াজ খান বললেন, প্রথাগত ব্যাংকিং সেবাকে আরও আধুনিক ও সহজলভ্য করতে নগদের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে দেশজুড়ে ব্যাংকটির ১০৯টি শাখা ও উপশাখা থাকলেও সব এলাকায় সেবা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। নগদের তিন লাখের বেশি এজেন্ট পয়েন্ট ব্যবহার করে গ্রাহকদের কাছে সহজেই ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়া যাবে, যা ব্যাংকের সেবার পরিধিকে আরও বিস্তৃত করবে।
অনুষ্ঠানে নগদের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার মোহাম্মদ শাহীন সারওয়ার ভূঁইয়া, রেমিট্যান্স বিভাগের প্রধান মো. আহসানুল হক বাশারসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া এনআরবি ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার উদ্দিন ও এম. রশিদুল হুদা, শাখা ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ তৌফিকুল আলম চৌধুরী, ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান মো. আরিফুজ্জামান, রেমিট্যান্স বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সৈয়দ মাহফুজ আলীসহ ব্যাংকটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল লেনদেনকে আরও জনপ্রিয় করতে নগদ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। প্রবাসী ও তাদের পরিবারের জন্য সচেতনতামূলক এবং পুরস্কারভিত্তিক বিভিন্ন ক্যাম্পেইনের পাশাপাশি সম্প্রতি ‘হার না মানা হার’ শীর্ষক একটি প্রচারণাও পরিচালনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ ছাড়া ‘বাংলা কিউআর’ পেমেন্ট সেবা এবং ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) সুবিধা চালুর মাধ্যমে ক্যাশলেস লেনদেনের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ১০ লাখ বাংলা কিউআর মার্চেন্টে নগদ অ্যাপ ব্যবহার করে সহজেই ডিজিটাল পেমেন্ট করা যাচ্ছে।




