আইএইউপি সম্মেলনে উচ্চশিক্ষায় এআইভিত্তিক ভবিষ্যৎ তুলে ধরল ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি

সংগৃহীত ছবি
উচ্চশিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎমুখী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)। কাজাখস্তানের আলমাটিতে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি প্রেসিডেন্টস (আইএইউপি) আঞ্চলিক সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়টির এআই-এনাবলড ইউনিভার্সিটি থেকে এআই-নেটিভ ইউনিভার্সিটিতে রূপান্তরের যাত্রা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন ডিআইইউর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান এবং আইএইউপির ট্রেজারার-ইলেক্ট ড. মো. সবুর খান।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে তিনি সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক ও উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে উচ্চশিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর, উদ্ভাবন এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে মতবিনিময় করেন।
“আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন ইন হায়ার এডুকেশন” শীর্ষক বিশেষ অধিবেশনে ড. সবুর খান শিক্ষা, মূল্যায়ন, প্রশাসন, কর্মসংস্থান উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা তৈরির বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডিআইইউতে এআই সংযুক্তির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ডিআইইউ এমন একটি এআই-নেটিভ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু প্রযুক্তি নয়, বরং শিক্ষা ও প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের সঙ্গে সমন্বিতভাবে যুক্ত থাকবে।
তার ভাষ্য, “ভবিষ্যতের উচ্চশিক্ষা শুধু এআই টুল ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। যে প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষা, মূল্যায়ন, নেতৃত্ব এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে এআই-চালিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনর্গঠন করতে পারবে, তারাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সেই ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে।”
সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আইএইউপির নতুন প্রকাশনা “ইউনিভার্সিটিজ আফটার এআই: ভয়েসেস ফ্রম দ্য গ্লোবাল ফ্রন্টিয়ার ” বইয়ের মোড়ক উন্মোচন। বইটিতে একটি অধ্যায় লিখেছেন ড. সবুর খান। প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি বিশেষ বক্তা হিসেবে অংশ নিয়ে এআই-সমন্বিত শিক্ষা-ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা এবং ডিজিটাল প্রতিষ্ঠান থেকে এআই-নেটিভ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। তাদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উচ্চশিক্ষা খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও উদ্ভাবনী ও বহুমুখী হতে হবে।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে কাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আইএইউপি আঞ্চলিক সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়টির সক্রিয় অংশগ্রহণ বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে বৈশ্বিক অঙ্গনে আরও শক্তিশালীভাবে উপস্থাপনে সহায়ক হবে।



