কলাম লেখার কৌশল নিয়ে বাংলাদেশ ফরওয়ার্ডের কর্মশালা

সংগৃহীত ছবি
সমসাময়িক বিষয় পর্যবেক্ষণ, মতামতের বস্তুনিষ্ঠতা, লেখার উপস্থাপন কৌশল এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কলাম পাঠানোর পদ্ধতি নিয়ে রাজধানীর পান্থপথে কলাম রাইটিং প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশ ফরওয়ার্ডের উদ্যোগে এবং স্মার্ট ল্যাবের সহযোগিতায় গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় শিক্ষার্থী, অ্যাক্টিভিস্ট, সাংবাদিক এবং ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতাসহ প্রায় ৩০ জন অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, মানসম্মত কলাম বা উপসম্পাদকীয় লেখার জন্য শুধু একাডেমিক বই-পুস্তকের ওপর নির্ভর না করে প্রতিদিনের ঘটনাপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। চারপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো থেকেই লেখার উপাদান সংগ্রহ করে তথ্য, যুক্তি ও নিজস্ব বিশ্লেষণের মাধ্যমে তা পাঠকের কাছে তুলে ধরতে হয়।
দৈনিক ইনকিলাবের এডিটোরিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট সৈয়দ ইবনে রহমত বলেছেন, চারপাশের ঘটনাগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে লেখার মতো অসংখ্য সমসাময়িক বিষয় পাওয়া যায়। সাংবাদিকতা বা মতামত লেখার ক্ষেত্রে শুধু একাডেমিক জ্ঞান যথেষ্ট নয়, বরং বাস্তব জীবনের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তব ঘটনাগুলো সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে লিখতে পারলে কলাম বা সম্পাদকীয় সাধারণ পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রিসার্চার ও পলিসি প্র্যাকটিশনার নুরুল ইসলাম বিপ্লব উল্লেখ করেছেন, মতামত কোনো সর্বজনীন তথ্য বা ডেটা নয়। একজন ব্যক্তির সামাজিক অবস্থান, গ্রহণযোগ্যতা ও নিজস্ব বিশ্লেষণের ওপরও তার মতামতের গুরুত্ব নির্ভর করে। সমাজে কার্যকর প্রভাব ফেলতে লেখার সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে মানসম্মত ও নতুন চিন্তাধারার লেখা তৈরি করা জরুরি।
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো নিয়ে মানসম্মত লেখার ঘাটতির উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন লেখকের মূল অবদান হওয়া উচিত পাঠকের সামনে নতুন কোনো তথ্য, বিশ্লেষণ বা দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা। ফেসবুক, ইউটিউব কিংবা সংবাদপত্রের কলাম, যেকোনো প্ল্যাটফর্মেই সততা, মেধা ও নিজস্বতার মাধ্যমে একজন লেখক নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারেন।
সাংবাদিক ও কলামিস্ট এইচ এম নাজমুল আলম সংবাদপত্রে উপসম্পাদকীয় পাঠানোর ক্ষেত্রে কিছু ব্যবহারিক দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইমেইলের সাবজেক্টে লেখার শিরোনাম দেওয়া, মূল অংশে অপ্রয়োজনীয় ভূমিকা না লিখে সরাসরি লেখা যুক্ত করা এবং শেষে সংক্ষিপ্ত পরিচয় ও যোগাযোগ নম্বর দেওয়া উচিত। লেখকের রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে প্রাসঙ্গিক পেশাগত বা লেখক পরিচয় দেওয়া উপযোগী বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, লেখকের ছবি নিজের নামে সংরক্ষণ করে পাঠানো এবং ওয়ার্ড ফাইলের নাম হিসেবে লেখকের নামের পরিবর্তে লেখার শিরোনাম ব্যবহার করা ভালো। এতে সম্পাদনা বিভাগের জন্য ফাইল ও ছবি শনাক্ত করা সহজ হয়। দেশীয় সংবাদপত্রের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য গণমাধ্যমে ইংরেজি কলাম পাঠানোর বিষয়েও তিনি পরামর্শ দেন।
সমাপনী বক্তব্যে বাংলাদেশ ফরওয়ার্ডের উপদেষ্টা ফজলে রাব্বী তথ্যের গুরুত্ব এবং তা গল্প বলার মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। ইউভাল নোয়া হারারির ‘নেক্সাস’ বইয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানবসভ্যতার বিকাশে তথ্যের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তথ্য কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে এবং গল্প বলার মাধ্যমে তা কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছানো হচ্ছে, কর্মশালায় মূলত সে বিষয়েই আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ ফরওয়ার্ডের জন্য এটি একটি প্রাথমিক বা পরীক্ষামূলক আয়োজন। ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও কার্যক্রম আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন নেজা মাহমুদ। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সংগঠনটির উপদেষ্টা রিয়াদ হাসনাঈন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফরওয়ার্ডের উপদেষ্টা মুর্তাজা খান লোদী, ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটসের ভাইস চেয়ারম্যান জাফর ইমাম, সাংবাদিক মেহদী ইসলাম, সংগঠনটির সভাপতি মো. মনিরুল হক জনি, সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান শাফি এবং সদস্য কবি হেমায়েত উল্লাহ ইমনসহ অন্যরা।



