৭ লাখের বেশি কৃষকের ৬০৫ কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করল কৃষি ব্যাংক

সংগৃহীত ছবি
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কৃষিবান্ধব নীতির অংশ হিসেবে অনূর্ধ্ব ১০ হাজার টাকা কৃষিঋণের আসল ও সুদ মওকুফ করেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি)। এ কর্মসূচির আওতায় দেশের ৭ লাখ ৯ হাজার ৬৭৯ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মোট ৬০৪ কোটি ৮১ লাখ ৮ হাজার ৬৬৭ টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে।
ব্যাংক সূত্র জানায়, সরকার ঘোষিত ঋণ মওকুফ কর্মসূচির আওতায় মওকুফ হওয়া মোট অর্থের প্রায় ৩৯ শতাংশই বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী ক্ষুদ্র অঙ্কের কৃষিঋণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বাজারে মন্দা এবং নানা আর্থিক সংকটের কারণে অনেক কৃষক নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি। ফলে তারা নতুন করে ঋণ গ্রহণের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছিলেন।
এ পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের আসল ও সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সারাদেশে তথ্য যাচাই, হিসাব সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে যোগ্য কৃষকদের ঋণ মওকুফের আওতায় আনে।
কৃষি ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের মোট কৃষিঋণের প্রায় ৬৩ শতাংশ এককভাবে বিতরণ করে প্রতিষ্ঠানটি। ঋণ মওকুফের ফলে বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক ঋণের দায় থেকে মুক্ত হয়ে আবারও নিয়মিত ব্যাংকিং সেবার আওতায় আসতে পারবেন। এতে তারা ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদনের জন্য নতুন করে ঋণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
ব্যাংকের মতে, কৃষকদের ঋণের বোঝা কমে গেলে তারা নতুন উদ্যমে চাষাবাদে মনোনিবেশ করতে পারবেন। এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষকের আর্থিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কৃষির আধুনিকায়ন ও কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। সহজ শর্তে কৃষিঋণ বিতরণ, সময়োপযোগী আর্থিক সহায়তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিবান্ধব ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণে ব্যাংকটি কাজ করে যাচ্ছে। ঋণ মওকুফ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয়, আঞ্চলিক ও শাখা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ব্যাংকটি জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী কৃষকদের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের কৃষি উন্নয়নে অবদান রেখে যাবে।




