আইপিওর পর দীর্ঘমেয়াদি পতনে মীর আখতার

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার সময়ে বুকবিল্ডিং পদ্ধতির মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলন করেছিল মীর আখতার হোসেন লিমিটেড। তখন কোম্পানিটির উচ্চ কাট-অফ প্রাইস নির্ধারণ করে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তালিকাভুক্তির পর বিগত ছয় বছরের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই দীর্ঘ সময়ে কোম্পানিটির রাজস্ব আয়, নিট মুনাফা এবং শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ধারাবাহিকভাবে কমেছে। আইপিওর অর্থ দিয়ে কোম্পানির ঋণ কমানোর লক্ষ্য তুলে ধরা হলেও বাস্তবে ঋণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আইপিওর প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব আর্থিক অবস্থার মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
২০২১ সালের আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টের ইস্যু ব্যবস্থাপনায় বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজার থেকে ১২৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে মীর আখতার। কাট-অফ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬০ টাকা, যার মধ্যে ৫০ টাকা ছিল প্রিমিয়াম। তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার ইস্যু করা হয়েছিল ৫৪ টাকা মূল্যে। কোম্পানিটি সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ বা শেয়ারপ্রতি ১.০৫ টাকা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কাট-অফ মূল্যের ওপর ভিত্তি করে নগদ রিটার্ন দাঁড়ায় মাত্র ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ, যা ব্যাংকের এফডিআর সুদের তুলনায় অনেক কম।
প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থের মধ্যে ৫০ কোটি টাকা ভারী যন্ত্রপাতি কেনা, ৪০ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ, ১২.৭০ কোটি টাকা অ্যাগ্রিগেট প্রসেসিং প্ল্যান্ট, ১০.০৯ কোটি টাকা ওয়্যারহাউজ ও ওয়ার্কশপ নির্মাণ, ৪.৬৮ কোটি টাকা অ্যাসফল্ট প্ল্যান্ট, ৩.৭৪ কোটি টাকা কংক্রিট ব্যাচিং প্ল্যান্ট এবং বাকি ৩.৫০ কোটি টাকা আইপিও ব্যয়ে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল।
কিন্তু আর্থিক তথ্যে হতাশার চিত্র দেখা যায়। তালিকাভুক্তির আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে নিট মুনাফা ছিল ৬৩.২৫ কোটি টাকা এবং ইপিএস ছিল ৬.৩২ টাকা। ছয় বছর পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মুনাফা কমে দাঁড়িয়েছে ২০.৭৪ কোটি টাকায় এবং ইপিএস নেমে এসেছে ১.৭২ টাকায়। অর্থাৎ এই সময়ে ইপিএস কমেছে প্রায় ৭৩ শতাংশ। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসেও মুনাফা কমে ৭.৯৭ কোটি টাকায় নেমেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১২.০৮ কোটি টাকা।






