টেক্সটাইল খাত পুনরুজ্জীবনে জরুরি নীতি সহায়তার দাবি

ছবি: আগামীর সময়
দেশের রপ্তানিমুখী প্রাথমিক টেক্সটাইল শিল্প টিকিয়ে রাখতে এবং সংকটে থাকা মিলগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের জরুরি নীতি সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।
আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংগঠনটির সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় টেক্সটাইল খাতের সংকট তুলে ধরে একগুচ্ছ দাবি ও প্রস্তাবনা লিখিতভাবে গভর্নরের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিটিএমএ জানায়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ভূরাজনৈতিক সংঘাত, দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকট এবং জ্বালানি ও ইউটিলিটি ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে দেশের অধিকাংশ টেক্সটাইল মিল তীব্র আর্থিক সংকটে রয়েছে।
সংগঠনটি আরও জানায়, ব্যাংক ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন এবং চলতি মূলধনের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
উৎপাদন আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ থাকলেও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা, ঋণের কিস্তি, সুদ এবং ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করতে গিয়ে উদ্যোক্তাদের মূলধন দ্রুত কমে যাচ্ছে। ফলে অনেক মিল উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম উৎপাদন করছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মিল ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।
ব্যবসায়ী নেতারা সতর্ক করেন, এভাবে শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হতে থাকলে উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতেও খেলাপি ঋণের ঝুঁকি বেড়ে যাবে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত প্রাক-অর্থায়ন স্কিমে গ্রুপভিত্তিক মূল্যায়নের পরিবর্তে প্রকল্প বা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সিআইবি মূল্যায়ন চালুর দাবি জানানো হয়। এতে একই গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যার কারণে অন্য কার্যকর প্রতিষ্ঠান ব্যাংকিং সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে না বলে তারা উল্লেখ করেন।
বিটিএমএ ব্যাংক ঋণের কার্যকর সুদের হার আবার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনারও দাবি জানায়। একই সঙ্গে এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ)-এর ঋণসীমা বর্তমান ২০ মিলিয়ন ডলারের পরিবর্তে গত ১২ মাসের প্রত্যাবাসিত রপ্তানি আয়ের ৬৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
সংগঠনটি ইডিএফের সুদের হার ২ শতাংশে নির্ধারণ এবং তহবিলের আকার বাড়ানোরও আহ্বান জানায়।
এ ছাড়া প্রচ্ছন্ন রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা স্পষ্ট করা এবং দেশের অভ্যন্তর থেকে বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে পণ্য সরবরাহের বিপরীতে নগদ সহায়তা পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়।
প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন ও পরিবেশবান্ধব কারখানা গড়ে তুলতে গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ডের পরিধি বাড়ানো এবং ভারতের মতো প্রযুক্তি উন্নয়নভিত্তিক সহায়তা কাঠামো বিবেচনার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
ব্যাংকিং লেনদেন সহজ করতে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির আওতায় সরবরাহ করা সুতা ও কাপড়ের বিপরীতে ম্যাচিউরড বিলের অর্থ ডকুমেন্ট পাওয়ার সর্বোচ্চ সাত কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানায় বিটিএমএ।
এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে এলসি খোলা, বিল নিষ্পত্তি এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বিদ্যমান সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যকর হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়।
ব্যবসায়ীদের নগদ প্রবাহের বাস্তবতা বিবেচনায় মেয়াদি ঋণের ওভারডিউ কিস্তির সংখ্যা বর্তমান তিনটি থেকে বাড়িয়ে আগের মতো ছয়টি করারও দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের ব্যবসা পুনর্গঠনের আবেদনের সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ করা হয়।
বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বললেন, ‘এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে বন্ধ ও আংশিক বন্ধ টেক্সটাইল মিলগুলো আবার উৎপাদনে ফিরতে পারবে। একই সঙ্গে ব্যাংকের ঋণ পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সংরক্ষণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের মাধ্যমে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।’
জাতীয় অর্থনীতি ও শিল্পায়নের স্বার্থে দাবিগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।




