সবজি বাজারের আগুনে পুড়ছে ক্রেতার পকেট

সংগৃহীত ছবি
সকালের বাজার। এক হাতে ব্যাগ, অন্য হাতে টাকা। এক দোকানে পটোলের দাম শুনে অন্য দোকানে যাচ্ছেন ক্রেতা রাসেল মিয়া। শেষ পর্যন্ত কিনলেন আধা কেজি পটোল।
শুধু পটোল নয়, বেগুন, শিম, করলা কিংবা কাঁচা মরিচ—প্রতিটি সবজির দাম শুনেই হিসাব মেলাতে হচ্ছে তাকে।
দু-এক দিনের ব্যবধানে কোনো কোনো সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৪০ টাকা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর কাঁঠালবাগান বাজার, কারওয়ান বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।
কাঁঠালবাগান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, পটোল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১২০ টাকায়। অথচ বুধ ও বৃহস্পতিবার পটোলের দাম ছিল ৮০ টাকার আশপাশে। আর গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়। শিমের কেজি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঝিঙা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং ঢ্যাঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়।
কাঁচা মরিচের দাম কোথাও ১২০ থেকে ১৬০, টমেটো ১২০ থেকে ১৪০, ফুলকপি প্রতি পিস ৭০ থেকে ১৫০, পেঁপে কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০, লাউ প্রতি পিস ৪০ থেকে ৬০, আর মুলা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকায়।
বাজারে দাম শুনে পরিমাণে কম কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতারা। এ বিষয়ে রাসেল মিয়া বলছিলেন, ‘পটোল তো কালকেও ৭০-৮০ টাকা ছিল। আজ ১২০ টাকা চাচ্ছে। এটা কি হতে পারে? আমাদের যাওয়ার জায়গা নেই।’
কারওয়ান বাজারের ক্রেতা মানিক মিয়ার কণ্ঠেও সেই অসহায়ত্ব। তিনি বলেছেন, ‘দিন যত যাচ্ছে, জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলেছে। বাজারে সবজি, মাছ, মাংস—সবগুলোর দাম বেশি। এক কেজি গরুর মাংস কিনতে গেলে আর টাকা থাকে না।’
আরেক ক্রেতা সেলিম মিয়ার অভিজ্ঞতাও ভিন্ন নয়। ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বললেন, ‘আমাদের আর বলার কিছু নেই। কার কাছে বলবেন? কেউ তো আমাদের কথা শোনে না। আগে যা কিনতাম, এখন তার অর্ধেক কিনি। আর বুকে পাথর বেঁধে সবকিছু সহ্য করে যাই।’
পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহের চাপ
বাজারে সবজির দাম বেশি থাকার কারণ হিসেবে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, বৃষ্টির প্রভাব এবং সরবরাহ কমে যাওয়ার কথা বলছেন বিক্রেতারা। তাদের দাবি, একদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পণ্য পরিবহনের ব্যয় বেড়েছে, অন্যদিকে শীতকালীন সবজির সরবরাহ এখনো পর্যাপ্ত নয়। ফলে আগের মৌসুমের সবজি কমে আসায় বাজারে দাম চড়া।
কাঁঠালবাগান বাজারের সিরাজুল ইসলাম বলেন, আগামী দু-এক মাসের মধ্যে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে।
মাছে অস্বস্তি, স্থিতিশীল মুরগির দাম
সবজির পর মাছ কিনতে গেলেও ক্রেতাদের পকেটে টান পড়ছে। বাজারে রুই মাছের কেজি ৩৬০ থেকে শুরু করে ৩৮০-৪২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য মাছের দামও চড়া বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
তবে মুরগির বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৯০ টাকা, কক মুরগি ৩৩০ এবং লেয়ার মুরগি ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর আগের মতোই গরুর মাংসের কেজি ৮২০ এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, কিছু বাজারে ডিমের দামে সামান্য স্বস্তি এসেছে। ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৪০ টাকায়, যা আগের তুলনায় ১০ টাকা কম বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।



