বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় দরপতন

সংগৃহীত ছবি
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় দরপতন হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আজ বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেন শুরুর পরই স্বর্ণের দাম কমতে থাকে। অথচ আগের কার্যদিবসে স্বর্ণের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত স্বর্ণের দিকে কম ঝোঁকেন। কারণ স্বর্ণ থেকে সরাসরি সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না। এ কারণেই সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় সোনার দাম কমেছে।
বুধবার স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ২৫ দশমিক ১২ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে আগস্ট সরবরাহের গোল্ড ফিউচার্সের দাম ১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩০ দশমিক ৪০ ডলারে।
এর আগের দিন মঙ্গলবার স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে জুন মাসের মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে কমে আসার তথ্য প্রকাশের পর স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ১০০ দশমিক ৪৯ ডলারে উঠেছিল। এটি ছিল দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ।
তবে সেই ঊর্ধ্বগতি বেশিক্ষণ টেকেনি। ইরানকে ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের কারণে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে টানা তিন কার্যদিবস ধরে তেলের দাম বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কাও বাড়ে। একই সঙ্গে সুদের হার দীর্ঘ সময় উঁচুতে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ছে সোনার বাজারে।
ওআন্ডার জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক কেলভিন অং বললেন, ‘বাজার এখন মূল্যস্ফীতির ইতিবাচক তথ্যের চেয়ে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির দিকে বেশি নজর দিচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে স্বর্ণের দামের ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, এখনই সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা নেই। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও তথ্য প্রয়োজন।
এদিকে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনকারী মূল্যসূচক (পিপিআই) প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।
অন্য মূল্যবান ধাতুগুলোর মধ্যেও দরপতন হয়েছে। স্পট সিলভারের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। প্লাটিনামের দাম কমেছে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। তবে প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।




