প্রথম ৪ মাসে রপ্তানি আয় বাড়ল ৫.৮৮ শতাংশ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বিশ্ববাজারে নানা চ্যালেঞ্জ ও প্রতিযোগিতাকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত তার ধারাবাহিক ও শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ৭০৮ কোটি ৫৯ লাখ মার্কিন ডলার।
এ অর্জন পূর্ববর্তী অর্থবছরের (২০২৫-২৬) একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া একক মাস হিসেবে গত অক্টোবর ২০২৬-এ রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৯৯ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বর মাসের চেয়ে ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি।
আজ রবিবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
দেশের রপ্তানি আয়ের মূল ভিত্তি তৈরি পোশাক বা আরএমজি খাত বরাবরের মতো এবারও প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। জুলাই-অক্টোবর সময়ে পোশাক খাতের আয় ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৩৭৪ কোটি ৬৩ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ১ হাজার ২৯৯ কোটি ডলার। এককভাবে অক্টোবর মাসে পোশাক রপ্তানি ৪ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়ে ৩১৬ কোটি ৭৭ লাখ ডলারে উন্নীত হয়েছে।
পোশাক খাতের বাইরে অন্যান্য অপ্রচলিত ও সম্ভাবনাময় পণ্যগুলোও দারুণ চমক দেখিয়েছে। এর মধ্যে ওষুধ শিল্প বা ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ৪৪ শতাংশের রেকর্ড প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা বিশ্ববাজারে দেশের ওষুধ খাতের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার স্পষ্ট প্রমাণ। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পণ্যের প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ঝোঁক বাড়ায় পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি ২৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ১২ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যে ১২ দশমিক ৪৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে। তবে কৃষি পণ্য এবং হিমায়িত মাছের খাতে কিছুটা নেতিবাচক ধারা পরিলক্ষিত হয়েছে।
রপ্তানি গন্তব্যের দিক থেকে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে। আলোচ্য চার মাসে দেশটিতে রপ্তানি ১১ দশমিক ৫১ শতাংশ বেড়ে ৩৩৪ কোটি ৮২ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।
তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাজ্যে ১৭৪ কোটি ১৮ লাখ ডলার এবং তৃতীয় স্থানে থাকা জার্মানিতে ১৫৬ কোটি ৬৮ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে।
এ ছাড়া স্পেনে ১৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধিসহ ১৫১ কোটি ৫৪ লাখ ডলার আয় হয়েছে। উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে রপ্তানি ৮২ দশমিক ৬৯ শতাংশ উল্লম্ফন হয়ে ২৯ কোটি ২১ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে পাশাপাশি ভারত ও জাপানসহ অন্যান্য প্রধান বাজারগুলোতেও ।




