বাজেট প্রতিক্রিয়া
বিএনপির ১৬ অর্থনৈতিক লক্ষ্য

সংগৃহীত ছবি
বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; বরং একটি দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পথচলার রূপরেখা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটেও উঠে এসেছে ঠিক এমনই একটি দীর্ঘমেয়াদি স্বপ্নের ছবি। শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, ব্যাংক সংস্কার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির মতো বিষয়গুলোকে সামনে রেখে প্রণীত এ বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ১৬টি অর্থনৈতিক লক্ষ্য। অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের যে অঙ্গীকার বিএনপি করেছিল, তার অনেকটাই এবার স্থান পেয়েছে বাজেটের বিভিন্ন প্রস্তাব ও কর্মপরিকল্পনায়।
সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হিসেবে সামনে আনা হয়েছে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং রাজস্ব ও মুদ্রানীতির সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাজেটের প্রতিপাদ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বেসরকারি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ‘স্টিমুলাস প্যাকেজ-২০২৬’-এর আওতায় ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল গঠনের পাশাপাশি এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। বন্ধ শিল্পকারখানা আবার চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা এবং সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতগুলোকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যেও নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে এফডিআইকে জিডিপির ২ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যবসা সহজ করতে চালু হবে ‘ব্যাংকবিজ’ নামে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। পাশাপাশি মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সম্প্রসারণ এবং শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর কমানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে বাজেটের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু করা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায় টার্নওভার কর শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব, স্টার্টআপ খাতে ৫০০ কোটি টাকার তহবিল, সিম কর প্রত্যাহার এবং ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয় কর ও ভ্যাটমুক্ত রাখার উদ্যোগ তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে জিডিপিতে আইসিটি খাতের অবদান ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
রাজস্ব ব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার পরিকল্পনাও বাজেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কর প্রশাসনের অটোমেশন, রাজস্বনীতি ও ব্যবস্থাপনাকে পৃথক করা এবং কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে কর কমানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে বাজেটে।
ব্যাংক খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনা এবং খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। দুর্বল ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে করপোরেট বন্ড, গ্রিন বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড ও সুকুক বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংকনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
জ্বালানি ও সবুজ অর্থনীতির ক্ষেত্রেও বাজেটে রয়েছে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা। ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা এবং মোট চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ খাতে কর অব্যাহতি, নতুন গ্যাস কূপ খনন, প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো এবং ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগও বাজেটে স্থান পেয়েছে।




