বাজেট প্রতিক্রিয়া
প্রতারণা বলছে এনসিপি

সংগৃহীত ছবি
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে কিছু ভালো দিক থাকলেও সামগ্রিকভাবে এই বাজেট প্রতারণার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। তাদের অভিযোগ, এই অর্থনৈতিক পরিকল্পনার আকার কাল্পনিক ও ইউটোপিয়ান হয়েছে। এটা ইশতেহারভিত্তিক বাজেট। একটা কথা আছে, যত বড় বাজেট, তত বড় নেতাকর্মীদের পকেট ভারী। এটিই করা হয়েছে কি না, সেটিও এখন একটি প্রশ্ন বোধ হয়। এতে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি; বরং চরমভাবে হতাশ ও উদ্বিগ্ন হয়েছে দেশবাসী।
গতকাল শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মুজাহিদ বলছিলেন, এই বাজেটে কিছু ভালো দিকও আছে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তায় কিছু বিষয় ইতিবাচক মনে হলেও প্রকৃতার্থে কেউ বিশ্লেষণ করলে দেখবে, এটি একটি মহাপ্রতারণা।
‘এত বড় বাজেটের টাকা কোথা থেকে আয় করবেন, তা তো পরিষ্কারভাবে বলতে হবে। আপনি হয়তো এনবিআরকে একটি লক্ষ্যমাত্রা দিলেন, আমাদের এত টাকা দেবেন। কিন্তু এনবিআরকে যে সংস্কার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সেটিতে বড় বাধা দেওয়া হয়েছে এবং আপনারা বড় দল হিসেবে কোনো কথা বলেননি। ফলে এখনকার যে লক্ষ্যমাত্রা, এটি কোনোভাবেই আদায় করা সম্ভব নয়। শেষ বাজেটে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ হয়েছে। ফলে এখনো অর্ধেক বাজেট মিসিং। লক্ষ্যমাত্রা আহরণে যে সিস্টেমের কথা বলা হয়েছে, এতে আমাদের হিসাবে সর্বোচ্চ ৪ লাখ কোটি টাকা আয় সম্ভব। তার মানে এখানে আড়াই লাখ কোটি টাকা ঘাটতি। এ কারণে কয়েক দিন পর টাকা না থাকায় বাজেট কাটছাঁট করতে বাধ্য হবে সরকার’— ব্যাখ্যা করলেন তিনি।
বাজেট ঘাটতির সঙ্গে ব্যাংকঋণের কথা উল্লেখ করে আতিক মুজাহিদের প্রশ্ন, ‘আমাদের বিপুল পরিমাণ টাকা বৈদেশিক ঋণ। স্থানীয়ভাবে আরও বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে। এভাবে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক থেকে যদি ঋণ নিতে থাকে, তাহলে ব্যাংকের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে!’
‘আমাদের অনেক ব্যাংক ডেথ। ফলে এখান থেকেও ঋণ না পেলে বিকল্প হিসেবে আপনাকে টাকা ছাপাতে হবে। ফলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে; কিন্তু আপনি বলছেন, ঘাটতি কমিয়েছি। এটিও জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তৃতীয়ত, নতুন নিয়ম করা হয়েছে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে গেলে টিআইএন সার্টিফিকেট লাগবে। মানুষ ফরমাল চ্যানেলে যে টাকা লেনদেন করবে, তাও করতে তারা ভয় পাবে। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের অনেকে করের ভয়ে তা করবে না।’




