যেসব পণ্যের দাম কমবে, দাম বাড়বে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দাম কমবে
কৃষিপণ্য: চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি ও ভোজ্য তেলের ওপর উৎসে কর ৫, ২ ও ১ থেকে কমিয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
শিশুখাদ্য: আমদানি করা শিশুখাদ্য প্রস্তুতির কাঁচামালের ওপর আমদানি শুল্ক ১৫ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এতে বাজারে শিশুখাদ্যের দাম কমতে পারে।
খেজুর: মানুষের খাদ্যতালিকায় থাকা খেজুর আমদানিতে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বাজারে এই পণ্যটির দাম কমতে পারে।
ডায়ালাইসিস ফিল্টার: কিডনি রোগীদের অপরিহার্য চিকিৎসাসামগ্রী ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মসলা: প্রাত্যহিক রান্নায় ব্যবহৃত সব ধরনের মসলার ওপর থেকে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে বাজারে মসলার দাম কমতে পারে।
ইলেকট্রিক গাড়ি: ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানিতে করভার কমানো হয়েছে। এ ছাড়া চার্জিং নেটওয়ার্ক বাড়াতে চার্জার ও চার্জিং স্টেশনের আমদানি পর্যায়ে মোট করভার ৩৯.৭৫% থেকে কমিয়ে সম্পূর্ণ শূন্য করা হয়েছে।
স্কিন কেয়ার: স্থানীয় স্কিন কেয়ার ও বিউটি প্রোডাক্টস উৎপাদনকারীদের উৎসাহ দিতে এই শিল্পেরে দুটি কাঁচামাল আমদানির সম্পূরক শুল্ক ৩০ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।
মোবাইল সিম: মোবাইল সেবা আরও সহজলভ্য করতে প্রতিটি মোবাইল সিম কেনার ওপর আরোপিত ৩০০ টাকা হারে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে সিম কেনা সস্তা হবে।
সার ও কীটনাশক: কৃষিকাজে ব্যবহার্য সব সারের ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট এবং সব ধরনের কীটনাশক আমদানিতে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ আগাম কর সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ভোজ্য তেল: দেশে ভোজ্য তেল সরবরাহ বাড়াতে এবং কৃষি খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে দেশীয় তৈলবীজ-নির্ভর ভোজ্য তেল উৎপাদনে ১০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি কর সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
বাদ্যযন্ত্র: গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিন আমদানিতে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে বাজারে এসব বাদ্যযন্ত্রের দাম কমতে পারে।
দাম বাড়বে
সিগারেট: সিগারেটের ন্যূনতম খুচরা মূল্য বাড়ানো হয়েছে। নিম্ন স্তরের ক্ষেত্রে ১০ শলাকা ৬২, মধ্যম স্তরে ৯২, উচ্চ স্তরে ১৬০ এবং অতি উচ্চ স্তরে ২১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিদেশি কাজুবাদাম: দেশীয় চাষিদের সুরক্ষায় আমদানি করা প্রক্রিয়াজাত এবং অপ্রক্রিয়াজাত কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক ১ ও ৫ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে।
ওয়াশিং মেশিন: বাসাবাড়িতে কাপড় ধোয়ার কাজে ব্যবহৃত সব ধরনের আমদানি করা হাউজহোল্ড টাইপ ওয়াশিং মেশিনে নতুন করে ২০% সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
জর্দা ও নিকোটিন: জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নিকোটিন পাউচ ও নিকোটিন গ্র্যানুলস আমদানির ক্ষেত্রে ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
হিমায়িত মাছ: বিভিন্ন ধরনের উচ্চমূল্যের হিমায়িত মাছ আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ মূসক বা ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এতে এসব মাছের দাম বাড়তে পারে।
রড: বাড়ি নির্মাণের অন্যতম প্রধান উপকরণ বিভিন্ন ধরনের এমএস প্রোডাক্ট বা রড উৎপাদনের পর্যায়ে বিদ্যমান সুনির্দিষ্ট ভ্যাট কিছুটা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বাজারে রডের দাম বাড়তে পারে।
বাইসাইকেল: দেশে উৎপাদিত যন্ত্রাংশের সুরক্ষায় আমদানি করা বাইসাইকেলের ফ্রি হুইল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্ক ১৫ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে, সঙ্গে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
পাঙাশ মাছের ফিলেট: দেশীয় মৎস্যশিল্পের বাজার নিশ্চিত করতে আমদানি করা পাঙাশ মাছের ফিলেটের ওপর নতুন করে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসানো হয়েছে।
তামার তার ও টিউব: দেশীয় কপারশিল্পের সুরক্ষায় কপার বা তামার তার আমদানিতে ১০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক বসানো হয়েছে। এ ছাড়া কপার টিউব আমদানিতে শুল্ক ১৫ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে।
সুগন্ধ বৃক্ষ নির্যাস: আমদানি করা বৃক্ষ, বৃক্ষের অংশ এবং সুগন্ধ বৃক্ষ নির্যাসের আমদানি পর্যায়ে নতুন করে ১৫ শতাংশ মূসক বা ভ্যাট আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিশেষ কাগজ: কাগজশিল্পের দেশীয় উৎপাদকদের সুরক্ষায় গ্রিজ প্রুফ পেপার ও গ্লাসিন পেপার আমদানির ওপর শুল্ক ১০ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ এবং নতুন করে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এতে এসব কাগজের দাম বাড়তে পারে।




