আকার নয়, বাস্তবায়ন নিয়ে মাথা ঘামান

সংগৃহীত ছবি
আগামী বাজেটকে বড় বলা যায় না। এই বাজেট একদিকে খুব বড় নয়। কারণ হলো, জাতীয় আয়ের তুলনায় এটি এমন বড় না। তবে আমাদের যে সামর্থ্য আছে, অর্থায়নের যে সামর্থ্য, এর তুলনায় এটি বড়। যেহেতু প্রত্যেক সরকারকে আগের সরকারের চেয়ে আর্থিক পরিমাণে বড় বাজেট দিতে হবে আর বাস্তবায়ন করবে আগের চেয়ে কম।
এই জায়গাটিকে কী বলে— নকশা, না খেলা, তা আমরা ধরে ফেলেছি। এখন যেটা ধরার বিষয়, ঘোষিত বাজেট নিয়ে মাথা ঘামানোর কিছু নেই। গত বছরের বাজেট কতখানি বাস্তবায়ন করেছে, সেটি নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে। আপনাদের ও আমাদের পুরো মনোযোগের জায়গাটা ঘোষণার থেকে সরিয়ে এনে বাস্তবায়নে নিয়ে আসতে হবে।
সরকারের আয় বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে যাদের টিআইএন (ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার) আছে, তারা মাত্র ১৮ শতাংশ কর দেয়। বাকি ৮২ শতাংশ কোথায়? এই ৮২ শতাংশকে চিহ্নিত করে করের আওতায় নিয়ে আসাটাই বড় বিষয়। যেমন বাইকওয়ালারা কর দিতে চায় না। এখানে একটা করের ছাড় দেওয়া আছে। কিন্তু মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় হলে তো তার অন্তত ১ হাজার টাকা কর দেওয়ার কথা।
যে মানুষটা ২ লাখ টাকা দিয়ে একটা বাইক কেনে, তার কি ৩০ হাজার টাকা মাসিক আয় নেই, এটা বলতে চান? তাহলে তিনি কেন কর দেবেন না? কারণ কি জানেন? আমরা তো ৫০ হাজার টাকা করে এমনি অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স দিই গাড়ি আছে বলে। ওটা আমার সমন্বয় হয়, যখন আমি আয়কর দিই। ওই লোক যে বাইক কিনেছে, তিনি ১ হাজার টাকাও দিতে পারেন না। কারণ হলো, সমন্বয় করবেন কোথায়? ওনার তো ট্যাক্স ফাইলই নেই। সেহেতু উনি ট্যাক্সের জন্য ১ হাজার টাকা অগ্রিম দিতেও রাজি নন।
কারণ, ওই অগ্রিম টাকাটাই ওনার জলে যাবে বলে ভয় পান। এটাই হলো বিষয়। আমরা যারা আয়ের আওতার ভেতরে আছি, তাদের অবশ্যই করের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এজন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দুর্নীতি এবং স্বেচ্ছাচারিতাও কমাতে হবে। রাজস্ব বোর্ড লোকজন ডেকে নিয়ে হেনস্তা করে, তারপর তাদের কাছ থেকে উৎকোচ নেয়। আমি আর বলছি না। এসব পরিহারের ব্যবস্থা করতে হবে।
লেখক: সম্মাননীয় ফেলো, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি)




