বাজেট প্রতিক্রিয়া
লুটপাটের আখ্যা জামায়াতের

সংগৃহীত ছবি
সদ্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে অধিক ঋণনির্ভর ও উচ্চাভিলাষী এবং বাস্তবায়ন অযোগ্য ও লুটপাটের বলেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির অভিযোগ, এই পরিকল্পনায় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও সুশাসনের বিষয়। ব্যাংক ও বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত রাজস্ব কীভাবে সংগ্রহ করা হবে এবং ঘাটতি কীভাবে পূরণ হবে, সে বিষয়েও নেই স্পষ্ট ব্যাখ্যা।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বাজেট নিয়ে দলীয় আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। অবিলম্বে এই ‘উচ্চাভিলাষী ও লুটপাটনির্ভর বাজেট’ সংশোধন করে বিনিয়োগবান্ধব, কর্মসংস্থানমুখী ও জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা করার আহ্বান তার।
গোলাম পরওয়ারের শঙ্কা, বড় আকারের সরকারি ঋণ গ্রহণ বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাকে বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বাজেটে নির্ধারিত ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হতে পারে উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলছিলেন, কর প্রশাসন, দুর্নীতি দমন এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ৩ লাখ কোটি টাকায় উন্নীতে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন তিনি। পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন ব্যয়ে অপচয় ও অনিয়মের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ ছাড়া শিল্প খাতের বিভিন্ন কাঁচামাল, জ্বালানি ও বিদ্যুতের ওপর কর ও ভ্যাট বাড়ানোর বিষয়টিও দুশ্চিন্তার।
গোলাম পরওয়ারের ব্যাখ্যা, জামায়াতের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ছিল ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা এবং সেখানে বাজেট ঘাটতি তুলনামূলকভাবে কম রাখা হয়েছিল। জুলাই-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের জনগণ একটি জনবান্ধব, সুপরিকল্পিত, দূরদর্শী এবং বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট প্রত্যাশা করেছিল।




