ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে ৮০০ কোটির তহবিল

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের সৃজনশীল শিল্প খাতকে অর্থনীতির মূল ধারায় এনে অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চায় সরকার। এজন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি খাতে ৮০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকার সরাসরি ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাত থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। একই সঙ্গে সংগীত, চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আমদানিতে কর ও শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ খাতের সম্ভাবনা, লক্ষ্য ও বাস্তবায়ন কৌশল তুলে ধরেন।
অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারের লক্ষ্য দেশের ক্রিয়েটিভ শিল্পের বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে উন্মুক্ত করা এবং এ খাতকে জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তিতে পরিণত করা। এ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের জিডিপিতে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির অবদান ১ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকার পূর্বাচলে ১৬০ একর জমির ওপর পিপিপি মডেলে একটি বিশ্বমানের সেন্ট্রাল ক্রিয়েটিভ হাব প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং শিশু একাডেমি ও শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ক্রিয়েটিভ হাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্নাতক পর্যায়ের কলেজে ইনোভেশন হাব চালুর কর্মপরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে হাতে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বললেন, ‘একটি গ্রাম-একটি পণ্য’ উদ্যোগের আওতায় তাঁতশিল্প, মৃৎশিল্প, বুননশিল্প, শীতলপাটি, শতরঞ্জি, কাঠের খেলনা, হাতে তৈরি গয়না, টেরাকোটাসহ বিভিন্ন ক্রিয়েটিভ পণ্য চিহ্নিত করা হচ্ছে। এসব পণ্যের নকশা ও মানোন্নয়নের জন্য দেশীয় ডিজাইনারদের সমন্বয়ে ‘ন্যাশনাল পুল অব ডিজাইনার্স’ গঠন করা হবে। বাজেটে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা পুনরুদ্ধার, আন্তর্জাতিক উৎসব আয়োজন, পর্যটন খাতের দক্ষতা উন্নয়ন এবং ‘ক্রিয়েডেট ইন বাংলাদেশ’ নামে জাতীয় ব্র্যান্ড চালুর ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া থিয়েটার, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, চলচ্চিত্র ও ওটিটি খাতের বিকাশে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন স্টুডিও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সৃজনশীল খাতকে উৎসাহিত করতে গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনসহ বিভিন্ন মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করছি। একই সঙ্গে উচ্চপ্রযুক্তির সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা ও প্রজেক্টরের খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।




