উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনই চ্যালেঞ্জ: আইসিএবি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নির্ধারিত ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনই সরকারের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন শুধু বাজেট ঘোষণার মধ্যে সীমিত রাখলে সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন কর প্রশাসন সংস্কার, ডিজিটাল রূপান্তর এবং সরকার, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের সমন্বিত উদ্যোগ।
গতকাল শনিবার রাজধানীর সিএ ভবনে ‘২০২৬-২৭ প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট বিষয়ে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) নেতারাই তুলে ধরেন এসব পর্যবেক্ষণ।
সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, বাজেট অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও বেসরকারি খাতের উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তবে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে বাস্তবায়নের সামর্থ্যের ব্যবধান নিয়ে রয়েছে তাদের প্রবল উদ্বেগ।
লক্ষ্য অর্জন শুধু বাজেট ঘোষণার মধ্যে সীমিত রাখলে সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন কর প্রশাসন সংস্কার, ডিজিটাল রূপান্তর এবং সরকার, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের সমন্বিত উদ্যোগ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্নের প্রেক্ষাপটে সরকার ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) হাতে নিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে দেশের উন্নয়নে এই বিনিয়োগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তাদের প্রত্যাশা।
আইসিএবির সভাপতি এন কে এ মবিন বলেছেন, উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শুধু বাজেট ঘোষণাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সমন্বিত প্রয়াস ও সংস্কারের বাস্তব প্রয়োগ। ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের। ব্যাংক থেকে সরকারের এত বিশাল মাত্রার ঋণ গ্রহণ বেসরকারি খাতে ঋণের প্রাপ্যতা কমিয়ে বিনিয়োগে চাপ সৃষ্টি করতে পারে— এমনটাই আইসিএবির শঙ্কা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও আইসিএবির যৌথ উদ্যোগে চালু হওয়া ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (ডিভিএস) কর ফাঁকি রোধ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং রাজস্ব আহরণে রাখছে কার্যকর ভূমিকা। কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং করব্যবস্থায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা ছাড়া টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আয়কর আইন ২০২৩, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ এবং কাস্টমস আইন ২০২৩-সহ বিভিন্ন আইন ও বিধিমালা নিয়ে এনবিআরকে দেওয়া আইসিএবির একাধিক সুপারিশ বাজেটে স্থান পেয়েছে। এতে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নে সহায়ক হবে এসব পদক্ষেপ।
সংবাদ সম্মেলনে সঞ্চালনা করেন আইসিএবির ট্যাক্সেশন অ্যান্ড করপোরেট লজ কমিটির চেয়ারম্যান এমবিএম লুৎফুল হাদী। আর সমাপনী বক্তব্য দেন সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনিরুজ্জামান।


