বাজেট ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক ঋণ, অভ্যন্তরীণ খাতে ভরসা সরকারের

সংগৃহীত ছবি
প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি পূরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিগত সরকারের আমলের মতো দেশের ব্যাংকিং খাতের পাশাপাশি বৈদেশিক উৎস এবং বিকল্প অভ্যন্তরীণ খাত থেকে অর্থায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি অর্থায়নের জন্য অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎসের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল নিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, মোট ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে এবং ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মেটানো হবে।
যেভাবে পূরণ হবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি
অভ্যন্তরীণ উৎসের ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ব্যাংকিংব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ সচল রাখতে এবং দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার আগামী অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ ৬ হাজার কোটি টাকা হ্রাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ঋণ ব্যবস্থাপনায় আমূল সংস্কারের ঘোষণা
বাজেট বক্তৃতায় জানানো হয়, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে অপরিকল্পিত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়ার কারণে বর্তমানে দেশের ঋণ ও সুদ পরিশোধের ব্যয় অত্যধিক বেড়ে গেছে। যার ফলে বাজেট ঘাটতিও বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০০৫-০৬ অর্থবছরে যেখানে বাজেট ঘাটতি ছিল জিডিপির মাত্র ২.৯ শতাংশ, সেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে ৪.০৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছিল। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বর্তমান সরকার ঋণ ব্যবস্থাপনা সংস্কার, উচ্চ রিটার্ন সমৃদ্ধ এবং গুণগত মানসম্পন্ন প্রকল্পে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কাঠামো আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে অর্থপ্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে বলে আশা সরকারের।
বাজেট প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সামগ্রিক ব্যয় কাঠামোর প্রধান তিনটি খাতের মধ্যে সামাজিক অবকাঠামো খাতে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ২ লাখ ৭৯ হাজার ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা মোট বাজেটের ২৯.৭৪ শতাংশ।
এ ছাড়া সাধারণ সেবা খাতে ২ লাখ ৪৫ হাজার ১১৭ কোটি টাকা (২৬.১৩ শতাংশ) এবং ভৌত অবকাঠামো খাতে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা (১৮.৬৬ শতাংশ) বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতেই সামাজিক অবকাঠামো খাতে এই বিশাল ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে বলে বাজেটে উল্লেখ করা হয়।







