মানি মার্কেটে লেনদেনভিত্তিক রেফারেন্স রেট যুগে বাংলাদেশ

ছবিঃ আগামীর সময়
দেশের আর্থিক বাজারের স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের সংস্কারে হাত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে আর শুধু ব্যাংকগুলোর দেওয়া তথ্যের (ঢাকা ইন্টারনাল রেট বা ডি়আইআর) ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং প্রকৃত লেনদেনের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে মানি মার্কেটের সুদের হার।
বৈশ্বিক এসওএফআরের (সিকিউরিটি ওভারনাইট ফিন্যান্সিং রেট) আদলে বাংলাদেশে প্রবর্তিত হতে যাচ্ছে প্রকৃত লেনদেনভিত্তিক নতুন রেফারেন্স রেট, যা শুরু হবে ১৫ এপ্রিল থেকে।
আজ সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় এসব তথ্য। আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে এই নতুন রেফারেন্স রেট নিয়মিত প্রকাশ করা হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশে প্রচলিত ছিল 'ঢাকা ইন্টারব্যাংক অফার রেট' বা ডিবোর। তবে এটি ছিল ব্যাংকগুলোর দেওয়া অফার রেটের ভিত্তিতে। অর্থাৎ ব্যাংকগুলো যে দরে লেনদেন করতে চায়, এটি নির্ধারিত হতো তার ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু অনেক ব্যাংকই নিয়মিত তথ্য দিত না। ফলে ফুটে উঠত না বাজারের প্রকৃত চিত্র।
এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে অটোমেটেড সিস্টেম ব্যবহার করে সরাসরি লেনদেনের তথ্য নিয়ে নতুন দুটি বেঞ্চমার্ক রেট প্রবর্তন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক মূলত দুটি রেট প্রকাশ করবে। প্রথমটি বাংলাদেশ ওভারনাইট ফিন্যান্সিং রেট (বিওএফআর)। এটি একটি রিস্ক-ফ্রি বা সিকিউরড রেট। আন্তঃব্যাংক রেপো লেনদেনের তথ্যের ভিত্তিতে এটি নির্ধারিত হবে। দ্বিতীয়টি ঢাকা ওভারনাইট মানি মার্কেট রেট। এটি হবে ইনসিকিউরড বা জামানতবিহীন লেনদেন (কলমানি) ভিত্তিক রেট।
যেভাবে নির্ধারিত হবে সুদের হার
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট জানায়, এই রেটগুলো কোনো ব্যাংক বা ব্যক্তির ইচ্ছামতো হবে না। এটি হবে লেনদেনের পরিমাণভিত্তিক গড়। বিওএফআরের ক্ষেত্রে ওভারনাইট এবং এক সপ্তাহ মেয়াদি রেট প্রকাশ করা হবে। অন্যটির ক্ষেত্রে পাওয়া যাবে ওভারনাইট, এক সপ্তাহ, এক ও তিন মাস মেয়াদি রেট।
অস্বাভাবিক কোনো লেনদেন যাতে রেটকে প্রভাবিত করতে না পারে, সেজন্য ব্যবহার করা হবে পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশেষ পদ্ধতি। যদি কোনো নির্দিষ্ট দিনে পর্যাপ্ত লেনদেন না থাকে, তবে 'রোলিং উইন্ডো' পদ্ধতিতে আগের কার্যদিবসের তথ্য যোগ করে নিশ্চিত করা হবে স্বচ্ছতা।
বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এই উদ্যোগের ফলে দেশের আর্থিক বাজারে তৈরি হবে সুদের হারের একটি নির্ভরযোগ্য মানদণ্ড। এতে করে বিভিন্ন ঋণচুক্তি, বন্ড ও ফ্লোটিং রেট প্রোডাক্টের মূল্য নির্ধারণ হবে সহজ।
আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন নতুন বিনিয়োগ পণ্য বাজারে আনতে পারবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের বাজার সম্পর্কে পাবেন ইতিবাচক ধারণা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, মার্চ থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে এই রেটগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছে। আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে সাধারণ মানুষ ও বিনিয়োগকারীরা প্রতিদিন সকালে এই রেফারেন্স রেট দেখতে পাবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও বার্ষিক পর্যালোচনার মাধ্যমে এই পদ্ধতিকে আরও আধুনিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

