ইসলামী ব্যাংকে ফিরল ২ হাজার গ্রাহক

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিলের পর ব্যাংকটি নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হওয়া শঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে। একই সঙ্গে ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকদের আস্থা বাড়তে শুরু করেছে। ফলে টাকা উত্তোলনের হার কমেছে। এমনকি গত ১ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত যারা হিসাব ভেঙে টাকা তুলে নিয়েছিলেন বা অন্য ব্যাংকে তহবিল স্থানান্তর করেছিলেন, তাদের একটি অংশ আবার ইসলামী ব্যাংকে ফিরতে শুরু করেছেন।
ব্যাংকটির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ১ হাজার ৪৪২টি এবং মঙ্গলবার ৫৫২টি হিসাব আবার চালু হয়েছে। এসব হিসাবের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকে ফেরত আসা অর্থের পরিমাণ দেড়শ কোটি টাকারও বেশি। একই দিনে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটিকে আরও ১ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
ইসলামী ব্যাংকের তথ্য বলছে, বুধবার পর্যন্ত ব্যাংকটির নগদ তারল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকা। গত ১ জুন এ পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে ১৭ দিনে তারল্য কমেছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। যদিও ১ জুন থেকে ১৪ জুনের মধ্যে গ্রাহকরা ১২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছিলেন। তবে গত তিন দিনে জমা ও উত্তোলনের হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নিট উত্তোলনের পরিমাণ ১২ হাজার কোটি টাকার সামান্য নিচে নেমেছে। মূলত গ্রাহকদের আস্থা ও স্বস্তি বাড়ায় বন্ধ বা স্থানান্তর করা হিসাব আবার চালু করা শুরু হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসাইন বলেছেন, ‘গ্রাহকরা আগের তুলনায় আমানত কম তুলে নিচ্ছেন। আজ বুধবার একদিনেই প্রায় দেড় হাজার গ্রাহক হিসাব ভেঙে বাড়িতে রাখা টাকা আবার ব্যাংকে জমা দিয়েছেন। আগের দিনও কয়েকশ গ্রাহক ফিরে এসেছেন। যারা টাকা অন্য ব্যাংকে স্থানান্তর করেছিলেন, তাদের অনেকেই ইসলামী ব্যাংকে অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তবে প্রক্রিয়াগত কারণে কিছুটা সময় লাগছে।
তিনি আরও বলেছেন, ‘অস্থিরতার সময় যারা টাকা তুলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারা চাইলে আগের মতো হিসাব চালু রাখতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ক্ষতি বা অতিরিক্ত চার্জ বিবেচনা করা হবে না।’
এদিকে ব্যাংকটির সব ধরনের সেবা স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার আরও ১ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সোমবার ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং রোববার ২ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার নগদ সহায়তা চেয়েছিল ইসলামী ব্যাংক।
আজ বুধবার ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের ৩ সদস্যরে প্রতিনিধি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের কথা জানালেও তারা পরবর্তীতে ডেপুটি গভর্ন ড. মো. কবির আহমেদের সঙ্গে বঠৈক করেছেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান। আর একইদিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের সঙ্গে কোনো বৈঠক হয়নি বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।






