বছরের দ্বিতীয়ার্ধে সিএসআর ব্যয় বেড়েছে ব্যাংকগুলোর
- জানুয়ারি-জুনে ছিল ১৪৭ কোটি টাকা
- জুলাই-ডিসেম্বরে ১৯৭ কোটি টাকা
- ৬ মাসে বেড়েছে ৫০ কোটি টাকা
- শিক্ষা খাতে বেড়েছে ৩০ কোটি টাকা

গ্রাফিক্স। ছবি: আগামীর সময়
গত বছরের (২০২৫ সালে) প্রথম ছয় মাসের (জানুয়ারি-জুন) তুলনায় দ্বিতীয়ার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয় বেড়েছে ৫০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। আর এই সময়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সিএসআর ব্যয় বেড়েছে অর্ধেক।
রোববার (৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এসব তথ্য।
তথ্য বলছে, বিদ্যমান নিয়মে কোনো ব্যাংক নিট লোকসানে থাকলে সিএসআর খাতে করতে পারবে না কোনো ব্যয়। আর নিট মুনাফায় থাকলে একটি অংশ সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে করতে পারবে ব্যয়। এ বিষয়ে ব্যাংক মুনাফার কত অংশ ব্যয় করবে বা আদৌ করবে কিনা তা তাদের নিজস্ব বিষয়।
কোনো ব্যাংক সিএসআর ব্যয় করলে তার অনুপাত কী হবে তা নির্ধারণ করে দেওয়া আছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, একটি ব্যাংক ১০০ টাকা সিএসআর ব্যয় করলে তার মধ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে খরচ করতে হবে ৩০ শতাংশ করে মোট ৬০ শতাংশ। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে ব্যয় করতে হবে ২০ শতাংশ। বাকি ২০ শতাংশ আয়-উৎসারী কাজ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি ছাড়াও খরচ করা যাবে অন্যান্য খাতে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধে অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বরে ব্যাংকগুলোর মোট সিএসআর ব্যয় হয়েছে ১৯৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। আর একই বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় ছিল ১৪৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা। সেই হিসাবে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় বেড়েছে ৫০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
প্রতিবেদন বলছে, গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধে অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে শিক্ষা খাতে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় হয়েছে ৬৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা, যা মোট সিএসআর ব্যয়ের ৩২ দশমিক ৪৭ শতাংশ। আর বছরের প্রথমার্ধে শিক্ষা খাতে সিএসআর ব্যয় ছিল ৩৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। সেই হিসাবে ছয় মাসে শিক্ষা খাতে সিএসআর ব্যয় বেড়েছে ৩০ কোটি ৪ লাখ টাকা।
তথ্য বলছে, গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধে অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় হয়েছে ৫৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা, যা মোট সিএসআর ব্যয়ের ২৯ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। আর বছরের প্রথমার্ধে স্বাস্থ্য খাতে সিএসআর ব্যয় ছিল ২৮ কোটি ১২ লাখ টাকা। সেই হিসাবে ৬ মাসে স্বাস্থ্য খাতে সিএসআর ব্যয় বেড়েছে ২৯ কোটি ৪ লাখ টাকা।
তথ্যানুযায়ী, গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধে অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে পরিবেশ এবং জলবায়ু খাতে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় হয়েছে ২৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা, যা মোট সিএসআর ব্যয়ের ১৮ দশমিক ৮১ শতাংশ। আর বছরের প্রথমার্ধে পরিবেশ এবং জলবায়ু খাতে সিএসআর ব্যয় ছিল ৫ কোটি ২১ লাখ টাকা। সেই হিসাবে ৬ মাসে পরিবেশ এবং জলবায়ু খাতে সিএসআর ব্যয় বেড়েছে ২৪ কোটি ৪ লাখ টাকা।
এছাড়া, গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধে অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে অন্যান্য ব্যয়ের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় হয়েছে ১৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা, অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, ক্রিড়া ও সংস্কৃতি খাতে ৮ কোটি ২২ লাখ টাকা, আয়-উৎসারী খাতে শূন্য দশমিক ৫৩ কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাতে ২১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধে সিএসআর খাতে সর্বোচ্চ ২৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয় করেছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। এরপর রয়েছে পর্যায়ক্রমে ব্র্যাক ব্যাংক ২০ কোটি টাকা, এক্সিম ব্যাংক ১৯ কোটি টাকা, ডাচ বাংলা ১৪ কোটি, ও যমুনা ব্যাংক ১৪ কোটি।















