ইসলামী ব্যাংকে খুরশীদ অপসারণে স্বস্তি
১২ হাজার কোটি টাকা উত্তলন ছাড়িয়েছে ১৫ দিনে
- ১-১৫ জুন ভাঙ্গানো এফডিআরসহ সকল হিসাব চালু করলে ক্ষতিপূরণ পাবেন গ্রাহক

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ইসলামী ব্যাংকে সম্প্রতি চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশীদ আলমকে নিয়োগের পর ব্যাংকটি নিয়ে নানা মহলে শঙ্কা ও অস্বস্তি সৃষ্টি হয়। গ্রাহকদের ব্যানারে চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে গত ১ জুন থেকে আন্দোলন কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনেক গ্রাহক আতঙ্কিত হয়ে টাকা তুলতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। যা গতকাল রবিবার ভয়াবহ আকার ধারণ করে। তখন কৌশলে চেক ক্লিয়ারিং, তহবিল স্থানান্তর, শাখা এবং এটিএম বুথে নগদ উত্তলন সীমা সীমিত রাখা হয়। আমানত নিরাপদ রয়েছে— কর্তৃপক্ষের এমন আশ্বাসেও পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে।
বাস্তব পরিস্থিতি অনুধাবন করে রবিবার রাতে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানসহ পর্ষদ বাতিল করা হয়। এতে স্বস্তির দেখা পান গ্রাহকসহ সংশ্লিষ্টরা। গতকাল পর্যন্ত ১২ হাজার ৬০০ কোটি উত্তলন করেছন গ্রাহকরা। এসময় জমা হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা।
ইসলামী ব্যাংক জানায়, যেসকল গ্রাহক ১ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত এমটিডিআরিএ, এমএসবি, এমএমপিডিএস, এমএসএ হিসাবে প্রি-ম্যাচিউরড অবস্থায় বন্ধ বা নগদায়ন করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারা আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে উক্ত হিসাব পুনরায় চালু করলে ইসলামী ব্যাংক সকল খরচ মওকুফ করে উক্ত হিসাব চলমান হিসেবে গণ্য করবে।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের আলোচিত ব্যবসায়ী এস আলমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বহুল পরিচিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলম সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছেন। তার নিয়োগে ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এস আলমের সহযোগী অভিযোগে খুরশীদ আলমের পদত্যাগ দাবিতে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে আন্দোলন চলছে। এমন পরিস্থিতিতে টাকা তোলার হিড়িক সৃষ্টি হয়েছে।
খুরশীদ আলমের নিয়োগ গত ২৪ মে হলেও ঈদের ছুটির পর ১ জুন থেকে ব্যাংক খোলার পর তার প্রভাব পড়তে শুরু করে। গত ১৫ দিনে ব্যাংকটি থেকে প্রায় ১২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বেশি তুলে নিয়েছেন গ্রাহকরা। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকে ইসলামী ব্যাংকের জমা থাকা ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও (সিআরআর) পজিটিভ অবস্থা থেকে নেগেটিভ হয়েছে। পরস্থিতি সামাল দিতে রবিবার রাতে চেয়ারম্যান ও পর্ষদ সদস্যদের নিয়োগ বাতিল হওয়ায় স্বস্তি দখো দিয়েছে।
গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান পদত্যাগ করার পর একই দিন বাংলাদেশ ব্যাংক সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। এর আগে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকে আন্দোলনের মুখে তিনি ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। আর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড পুনর্গঠন করা। তখন চেয়ারম্যান করা হয় ওবায়েদ উল্লাহ মাসুদকে। খুরশীদের মতো তার বিরুদ্ধেও আন্দোলন করেন গ্রাহকরা। বাংলাদেশ ব্যাংক তখন তা আমলে নেয়নি। পরে তিনি দুর্নীতির মামলায় কারাগারে যান।
ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসেন স্বীকার করেন, কিছু গ্রাহক তাদের আমানত তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানই। এই মুহূর্তে আতঙ্কিত হয়ে টাকা তোলার কোনো কারণ নেই।





