বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা
ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বহাল

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল মুদ্রার লেনদেন, কেনাবেচা, বিনিময় ও স্থানান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ধরনের কার্যক্রমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেওয়ার সুযোগও নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন এবং গ্রাহকের হিসাবের মাধ্যমে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন বন্ধে নজরদারি জোরদার করতে বলা হয়েছে, যা প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে এক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, বৈদেশিক বিনিময় হার ও প্রতিবেদন দাখিল, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোর লেনদেন, এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (এসিইউ) ব্যবস্থায় অর্থ পরিশোধ ও নিষ্পত্তি, বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব, ওপেন পজিশন (ব্যাংকের কাছে ডলার ধরে রাখা বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা) সীমা, নস্ট্রো হিসাবের সমন্বয়, ফরওয়ার্ড লেনদেন, সোয়াপ এবং আমদানি বাণিজ্যে পণ্যমূল্যের ঝুঁকি হেজিং-সংক্রান্ত নির্দেশনা বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রমে সমন্বিত নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া ভার্চুয়াল সম্পদ ও ভার্চুয়াল মুদ্রার বিনিময়, স্থানান্তর ও লেনদেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর জারি করা বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের পরিপত্রে ভার্চুয়াল সম্পদ ও ভার্চুয়াল মুদ্রা অর্জনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে, বাংলাদেশে বা বাংলাদেশের ভেতরে লেনদেন অনুমোদিত নয় বলে জানানো হয়। পরবর্তী সময়ে ১২ অক্টোবর ২০২২ তারিখে ব্যাংকগুলোকে এ ধরনের লেনদেন প্রতিরোধ ও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১৯৪৭ সালের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনে ভার্চুয়াল মুদ্রা স্বীকৃত মুদ্রা নয়। এসব সম্পদের বিপরীতে কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের নিশ্চয়তা নেই। ফলে এর মূল্য দ্রুত ওঠানামা করতে পারে এবং বিনিয়োগকারীরা আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।



