গাজীপুরের সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধে শ্রমিকরা

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে যানজট। ছবি: আগামীর সময়
গাজীপুরে ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে চতুর্থ দিনের মতো সড়কে নেমে বিক্ষোভ করছেন পোশাক শ্রমিকরা। বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ পোশাক কারখানা।
আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই নগরীর নাওজোর এবং ভোগড়া বাইপাস এলাকায় জড়ো হতে থাকেন গাজীপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একদল শ্রমিক নাওজোর এলাকায় পরিত্যক্ত কিছু আসবাবপত্রে আগুন ধরিয়ে দেন।
নাওজোর ফ্লাইওভারের পশ্চিম পাশে অবস্থান নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবরোধ সৃষ্টি করেন শ্রমিকরা। ফলে ঐ সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নাওজোর এলাকায় সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় বিজিবি, এসআরবি এবং পুলিশ।
এসব তথ্য জানিয়েছেন বাসন থানার ওসি মো. হারুন অর রশিদ।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূইয়া বললেন, ‘বিশৃঙ্খলা রোধে মোট ১১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।’
তিনি জানান, গাজীপুরের কালিয়াকৈর, শফিপুর ও মহানগরীর কোনাবাড়ী এলাকাতেও মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন শ্রমিকরা।
সকাল ১০টার দিকে ভোগড়া বাইপাস এলাকায় পোশাক শ্রমিকরা বিক্ষোভ সহকারে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেন বলে জানিয়েছেন ওসি।।
তিনি জানান, শ্রমিক আন্দোলনের ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচলে ব্যাহত হচ্ছে।
নাওজোর চান্দনা চৌরাস্তা এবং কোনাবাড়ী এলাকায় বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছে।
ওসি হারুন বললেন, ‘যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ কাজ করছে।’
গতকাল সোমবার গাজীপুরের প্রায় দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হলেও মঙ্গলবার সকাল থেকে বেশ কিছু কারখানা উৎপাদন শুরু করে। সকাল ৯টার দিকে আন্দোলনকারী কিছু সংখ্যক শ্রমিক বিভিন্ন কারখানায় গিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। তারা কারখানা বন্ধ করে শ্রমিকদের বের করে তাদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। এক পর্যায়ে অধিকাংশ কারখানায় ফের ছুটি ঘোষণা করা হয়।




