বাঘাইছড়ি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ আর কতদূর?

সংগৃহীত ছবি
শুষ্ক মৌসুম এলেই অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ে রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে। একের পর এক আগুনে পুড়েছে বাজার, দোকানপাট ও সরকারি কার্যালয়; ক্ষতি হয়েছে কোটি টাকার সম্পদ। অথচ প্রায় ১ হাজার ৯৩১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলায় নেই ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। আগুন লাগলে ভরসা করতে হয় ৫১ কিলোমিটার দূরের খাগড়াছড়ি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ওপর। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকিও।
স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে বাঘাইছড়িতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। জায়গাও নির্বাচন করা হয়েছিল। কিন্তু আট বছর পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি সেই স্টেশনের নির্মাণকাজ। এখনো চলছে ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া।
২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি উপজেলার একটি বড় মার্কেটে আগুনে প্রায় ২০০টি দোকান পুড়ে যায়। পরের বছর ২২ জানুয়ারি কাচালং বাজারে আগুনে পুড়ে যায় প্রায় ৪০টি দোকান। ২০২২ সালের ২২ জুলাই দুরছড়ি বাজারে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যায় ৭০টি দোকান। সর্বশেষ গত ২৯ অক্টোবর পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড পরিচালিত টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্পের (এসএসসিএইচটি) কার্যালয়ে আগুন লেগে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ব্যবসায়ী জসিমের ভাষ্য, ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের প্রয়োজনীয়তার কথা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে বারবার। কিন্তু এখনো কোনো সমাধান হয়নি। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলেও বাঘাইছড়ির মানুষ ফায়ার সার্ভিসের সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
জমি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ২০১৮ সালে, এখনো শুরু হয়নি নির্মাণকাজ
তবে এ সংকট সমাধানে একসময় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০১৮ সালে বাঘাইছড়ি উপজেলা সদরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ‘দেশের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা সদর-স্থানে ১৫৬টি ফায়ার স্টেশন স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ স্টেশন স্থাপনের কথা ছিল। সেসময় প্রকল্প পরিচালক ও যুগ্ম সচিব মো. আতাউল হক বাঘাইছড়ি পরিদর্শন করে স্টেশনের জন্য জায়গাও নির্বাচন করেন।
পৌর সদরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রাবার প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকার শাহ আলম কোম্পানির জায়গা প্রাথমিকভাবে স্টেশন স্থাপনের জন্য চূড়ান্ত করা হয়। প্রকল্পের তথ্য বলছে, বাঘাইছড়িতে প্রস্তাবিত ফায়ার স্টেশনটি ‘বি’ ক্যাটাগরির হওয়ার কথা ছিল। এটি ‘স্থল কাম নদীর পাড় স্টেশন’ হিসেবে পরিচালনার পরিকল্পনা ছিল। স্টেশনে একজন স্টেশন অফিসার, একজন সাব-অফিসার, দুজন লিডার, তিনজন চালক, একজন ইঞ্জিন ড্রাইভার, দুজন মাস্টার ড্রাইভার, একজন বাবুর্চি ও ১৮ জন ফায়ারম্যান থাকার কথা ছিল।
স্থানীয়দের দাবির সঙ্গে প্রশাসনের বর্তমান অবস্থানেরও কিছুটা মিল রয়েছে— প্রকল্পটি পুরোপুরি বাতিল হয়নি; বরং ভূমি-সংক্রান্ত প্রক্রিয়াই এখনো চলমান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজানের ভাষায়, ‘বাঘাইছড়ি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান।’
জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক নিউটন দাসের দাবি, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম চলছে। ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হলে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রস্তাবটি পাঠানো হবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে।



