সুন্দরগঞ্জ
এক মাসে ৮ যৌন নিপীড়ন, টার্গেট শিশু ও কিশোরী

প্রতীকী ছবি
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এক মাসে শিশু ও কিশোরীদের লক্ষ্য করে অন্তত আটটি যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ ঘটনায় একই ধরনের কৌশল ব্যবহার এবং অভিযুক্তদের মধ্যে প্রতিবেশী বা পরিচিত ব্যক্তির সম্পৃক্ততা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। শিশুদের বয়স ৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। এসব ঘটনায় হয়েছে সাতটি মামলা।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত উপজেলার বামনডাঙ্গা, বেলকা, দহবন্দ ও ছাপরহাটী ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে ঘটে পাঁচটি ঘটনা।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের বাড়ির আঙিনা বা আশপাশ থেকে ডেকে চকলেট, ফল কিংবা টাকার প্রলোভন দেখিয়ে নেওয়া হয় নির্জন স্থানে। বেশিরভাগ ঘটনা ঘটে দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে, যখন শিশুরা খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকে। কিছু ক্ষেত্রে শিশুদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে উদ্ধার করে হস্তান্তর করেন পরিবারের কাছে।
ঘটনাগুলোর মধ্যে ২৭ মার্চ দহবন্দ ইউনিয়নের গোপালচর গ্রামে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। ২ এপ্রিল বেলকা ইউনিয়নের পূর্ব বেলকা গ্রামে সাত বছরের এক শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে ৫২ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়, তবে তিনি এখনও গ্রেপ্তার এড়িয়েছেন। ৬ এপ্রিল বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের রামদেব গ্রামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণচেষ্টা চালানোর অভিযোগে ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
৯ এপ্রিল বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনিরাম কাজী এলাকায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৩ এপ্রিল একই এলাকায় ১৬ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে আরেক কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৪ এপ্রিল ছাপরহাটী ইউনিয়নের পূর্ব ছাপরহাটী গ্রামে ১৬ বছরের আরেক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে, তবে অভিযুক্ত এখনও পলাতক।
এরপর ২০ এপ্রিল একই ইউনিয়নের খামার মনিরাম গ্রামে চকলেটের লোভ দেখিয়ে ৩ বছরের শিশুকে বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ চেষ্টা করে এক কিশোর। যদিও এই ঘটনাটি পারিবারিক চাপে মীমাংসা করতে বাধ্য করা হয়। গত ২৮ এপ্রিল একই ইউনিয়নের মনিরাম কাজী গ্রামে পাঁচ বছর বয়সী আরেকটি শিশুকে ফলের লোভ দেখিয়ে ধর্ষণচেষ্টা করে তারই প্রতিবেশী। এ ঘটনায় ৪০ বছর বয়সী অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গাইবান্ধা জেলা মহিলা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক রিক্তু প্রসাদ জানান, ‘শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়, এটা ভয়ংকর সামাজিক মহামারিতে রূপ নিয়েছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে, কিন্তু নেই কার্যকর প্রতিরোধ। এটা স্পষ্টভাবে প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও সামাজিক উদাসীনতার ফল। অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাওয়ায় তাদের মধ্যে কোনও ভয় কাজ করছে না।’
‘দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করলে এই নৃশংসতা থামানো যাবে না; এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে’, যোগ করেন তিনি।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ জানালেন, ‘যৌন নিপীড়নের এসব ঘটনায় এক মাসে হয়েছে সাত মামলা। এ ঘটনায় আসামিদের বেশিরভাগ আছেন কারাগারে। যারা পলাতক তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।’




