টেকনাফ
১১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার, চালান গায়েবের অভিযোগে ২ জনকে পিটিয়ে হত্যা

কক্সবাজারের টেকনাফে মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ইয়াবার চালান থেকে ৩০ হাজার পিস আত্মসাতের অভিযোগে চারজনকে অপহরণ করে পাহাড়ে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। এতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। পরে তাদের মরদেহ পাহাড়ে গর্ত খুঁড়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
আজ বুধবার পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় আহত আরও দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
এর এক দিন আগে সোমবার রাতে একই উপজেলার হ্নীলা সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১১ লাখ পিস ইয়াবা ও পাঁচটি বড় রামদা উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৫। এ সময় দুজনকে আটক করা হয়। সীমান্ত এলাকায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদক কারবারের বিরোধে দুজনকে হত্যার ঘটনায় টেকনাফে মাদক চোরাচালানকে ঘিরে সংঘবদ্ধ চক্রের তৎপরতা ও সহিংসতার চিত্র সামনে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইয়াবার একটি চালান হোয়াইক্যং চেকপোস্ট দিয়ে পার করে দেওয়ার সময় ৩০ হাজার পিস আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে ইয়াবার মালিকপক্ষের সঙ্গে বিরোধের জেরে সোমবার রাতে চারজনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের হ্নীলা এলাকার গহীন পাহাড়ে আটকে রেখে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে নির্যাতনে মোক্তার আহমদ (৪৮) ও মোহাম্মদ আকবর (৩০) মারা যান। পরে তাদের মরদেহ পাহাড়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
নিহত মোক্তার আহমদ হোয়াইক্যং ইউনিয়নের দৈংগ্যাকাটা এলাকার মৃত আবদু সালামের ছেলে। মোহাম্মদ আকবর একই এলাকার কালু ফকিরের ছেলে। আহত দুজন হলেন হোয়াইক্যংয়ের তুলাতলী এলাকার মৃত আমির হোসেনের ছেলে আলী আহমদ (৪০) এবং আবুল হোসেনের ছেলে মো. ইলিয়াস (৩৫)।
আহত ইলিয়াসের ভাষ্য, ১০ কেজি ইয়াবার একটি চালান আটজন মিলে হোয়াইক্যং চেকপোস্ট পার করে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এ সময় চালান থেকে ৩ কেজি ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এর জেরেই তাদের চারজনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
তুলাতলী এলাকার মিজান বিচারের কথা বলে তাদের হ্নীলার একটি দলের হাতে তুলে দেন। পরে ওই দলের সদস্যরা তাদের পাহাড়ে নিয়ে নির্যাতন করেন। নির্যাতনকারীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রও ছিল বলে দাবি করেন ইলিয়াস।
ইলিয়াস আরও বলেন, নির্যাতনে মোক্তার ও আকবরের মৃত্যু হলে আহত দুজনের চোখ বেঁধে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে পশ্চিম পানখালী এলাকার ভিলিজার পাড়ায় ফেলে রাখা হয়।
বুধবার সকাল ৯টার দিকে হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম পানখালী বন বিট অফিসসংলগ্ন ভিলিজার পাড়া থেকে দুজনকে জীবিত ও একজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পরে একই দিন দুপুরে বড় লেচুপ্রাণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপরজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় কৃষকেরা তাদের পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে জীবিত ও দুজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
১১ লাখ ইয়াবা ও পাঁচটি রামদা উদ্ধার
এদিকে সোমবার রাত ১০টার দিকে হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভী বাজার আঠারো ঘরপাড়া এলাকার সীমান্তসংলগ্ন ধানক্ষেতে অভিযান চালিয়ে ১১ লাখ পিস ইয়াবা ও পাঁচটি বড় দেশীয় রামদা উদ্ধার করে এসআরবি-১৫। এ সময় আটক করা হয় আবছার উদ্দীন (১৯) ও আদিলকে (২৬)। আবছার হ্নীলার নাইখংখালী এলাকার সলিম উদ্দীনের ছেলে। আদিল মৌলভী বাজার এলাকার ছলিম উদ্দীনের ছেলে।
এসআরবি-১৫ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ সিপিসি-১ ক্যাম্পের সহকারী পুলিশ সুপার সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। পরে সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্দেহভাজন ৯ থেকে ১০ জনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে অভিযান চালানো হয়। এ সময় দুজনকে আটক করা সম্ভব হলেও অন্যরা পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে ১১ লাখ পিস ইয়াবা ও পাঁচটি বড় রামদা উদ্ধার করা হয়।
কক্সবাজার স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও পরিচালক (ল' অ্যান্ড মিডিয়া) আ ম ফারুক অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
উদ্ধার করা ইয়াবা ও রামদা এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তাদের টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।




