যোগদান রাতে, পরদিন প্রত্যাহার বাহুবল থানার ওসি

বাহুবল মডেল থানার সদ্য প্রত্যাহার ওসি আলী আশরাফ। ছবি: সংগৃহীত
হবিগঞ্জের বাহুবল মডেল থানার ওসি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন গত মঙ্গলবার রাতে। পরদিন প্রত্যাহার হলেন পুলিশ কর্মকর্তা আলী আশরাফ। একে নিয়মিত আদেশ বলা হলেও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর জেরে সামনে এসেছে আরেক ঘটনা।
গত ১৫ জুলাই বাহুবল মডেল থানার প্রত্যাহার করা হয় তৎকালীন ওসি মো. সাইফুল ইসলামকে। মঙ্গলবার রাতে সে পদে যোগ দেন আলী আশরাফ। এর পরেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে চুনারুঘাটের একটি ঘটনার ভিডিও।
চুনারুঘাটের ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভিডিওটি ২০২২ সালের। সে সময় চুনারুঘাট থানার ওসি ছিলেন আশরাফ। ভিডিওতে দেখা গেছে, বিএনপির একটি কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হন চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. মারুফ মিয়া।
ওই ভিডিওতে তৎকালীন ওসি আলী আশরাফের নেতৃত্বে পুলিশের অভিযানের দৃশ্য আছে বলে দাবি করেছেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।
চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. মারুফ মিয়া বললেন, ‘২০২২ সালে বিএনপির কর্মসূচিতে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছিল। পরে আমাকে প্রধান আসামি করে ৭৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর আমার পরিবার চরম মানসিক চাপে ছিল। আমার মা অসুস্থ হয়ে আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন।’
ছয় বছর আগের এই ভিডিও নিয়ে ফেসবুকে আলোচনার মধ্যেই গতকাল বুধবার আসে ওসি আশরাফের প্রত্যাহারের খবর। আদেশে সই করেন জেলা পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ। তাতে বলা হয়, আশরাফকে সংযুক্ত করা হয়েছে জেলা পুলিশ লাইনসে। বাহুবল থানার নতুন ওসি হিসেবে পদায়ন হয়েছেন মোহাম্মদ রুহুল আমিন তালুকদার।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রাশেদুল হক চৌধুরী এ বিষয়ে বললেন, ‘২০২৪ সালে কী ঘটেছিল তা জানা নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে খবর প্রচার হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’




