স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ককে হত্যাচেষ্টা, আসামি যুগ্ম আহ্বায়ক

ঈশ্বরদী স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম (বাঁয়ে) ও যুগ্ম আহ্বায়ক বিপুল হোসেন বুদু। ছবি: আগামীর সময়
পাবনার ঈশ্বরদীর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ৬ দিন পর মামলা হয়েছে থানায়। প্রধান আসামি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহ্বায়ক বিপুল হোসেন বুদু। ‘এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা’- বলছেন বিপুল।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঈশ্বরদী থানায় মামলাটি করেছেন হামলার শিকার শরিফুল। বিপুলসহ ছয়জনের নামে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ থেকে সাতজনকে করেছেন আসামি।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহ্বায়ক বিপুলের বাড়ি সাহাপুর মন্ত্রীমোড় এলাকায়। তিনি পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের ছোট ভাই। মামলায় অন্য আসামিরা হলেন, উপজেলা তারুণ্যদলের যুগ্ন সম্পাদক রাব্বি মালিথা, যুবদল নেতা সাহান হোসেন, বিএনপি নেতা নসু প্রামানিক, আরিফ হোসেন (ওরফে কালা আরিফ) ও মুকুল হোসেন।
গত বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার জয়নগর শিমুলতলা বাজার থেকে প্রাইভেট কার চালিয়ে বাসায় ফিরছিলেন শরিফ। এসময় দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে গুলি চালায়। গাড়ির গ্লাস ভেঙে বুলেট তার চোয়াল ভেদ করে বেরিয়ে যায়। পরে তাকে কুপিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সুস্থ হয়ে থানায় গিয়ে গতরাতে মামলা করেন তিনি।
শরীফের দাবি, হামলাকারীদের চিনতে পেরেছিলেন। তাদের সঙ্গে কোনো পূর্বশত্রুতা নেই। অন্য কারো নির্দেশে অর্থের বিনিময়ে তারা হামলা চালিয়েছেন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবের ছোট ভাই বিপুল হামলার সময় উপস্থিত ছিলেন।
সম্প্রতি স্থানীয় মানিক নগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি পদকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপি নেতা হাবিবের সঙ্গে শরীফের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। সে সময় ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে হাবিবের উদ্দেশে তিনি লিখেছিলেন, ‘ঈশ্বরদী-আটঘরিয়ার ধানের শীষের প্রিয় অভিভাবকের কাছে প্রশ্ন। ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বাবলু মহলদারের ছেলে এবং শেখ হাসিনার ডান হাত খ্যাত অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি নওশের সাহেবের ভাতিজা তুষার মহলদারের কাছে মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদ কত টাকায় বেচলেন?’
শরীফের ধারণা, এই স্কুল কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরেই তার উপর হামলা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বিপুলের ভাষ্য, ‘ঈশ্বরদীর মানুষ আমাকে ও আমার পরিবার সম্পর্কে খুব ভালো করে জানে। আমার রাজনৈতিক জীবনে আমি কখনো হামলার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলাম না, আর এখনো নেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তে তা প্রমাণিত হবে।’
স্কুল কমিটি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে জেলা বিএনপি নেতা হাবিব বললেন, ‘শরিফের অনুরোধ ও আকুতির কারণে তাকে মানিক নগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি বানিয়েছিলাম। কিন্তু সে দায়িত্বে থাকাকালে একদিনও বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়নি। পরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার সময় এলাকাবাসী ও বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠানপ্রধান আমাকে না জানিয়ে তাদের পছন্দমতো কমিটি করেছে।’
শরিফের বিরুদ্ধে তার পাল্টা অভিযোগ- ‘৫ আগস্টের পর শরীফ বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও চাঁদাবাজি করে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। নির্বাচনকালীন সময়ে সে নিয়মিত টাকা নিয়েছে। অথচ ধানের শীষের পক্ষে ভোট না দিয়ে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত আমার ভাই বুদুকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলার আসামি করেছে। আর প্রশাসন সেই মামলা তদন্ত না করেই কোর্টে পাঠিয়েছে।’
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানালেন, ঘটনার রাত থেকেই আসামি শনাক্তের চেষ্টা চলছিল। মঙ্গলবার রাতে মামলাটি নথিভুক্ত হয়েছে। তদন্ত করে আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।








