শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় আটক ৩, অভিযুক্ত চাচি পলাতক

তিন মাস বয়সি এক শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার আপন চাচির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। সংগৃহীত ছবি
নরসিংদীতে তিন মাস বয়সি এক শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার আপন চাচির বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত চাচি লতা বেগম (৩২)। অভিযুক্ত নারীর স্বামীসহ পরিবারের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।
লতা বেগমের স্বামী কাউছার আহমেদ, শ্বশুর আলমাছ মিয়া এবং শাশুড়ি শেফালী বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে বলে জানান মাধবদী থানার ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
তিনি জানান, তদন্তের স্বার্থে এবং এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদেরকে আটক করা হয়েছে। গত শনিবার নরসিংদীর মাধবদীর আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী গ্রামে ঘটেছে ঘটনাটি।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, জন্মের পর থেকেই শিশুটি প্রায়ই অস্বাভাবিকভাবে কান্না করত। এতে শিশুটির মা সায়েবা বেগমের সন্দেহ হয়, তার অনুপস্থিতিতে কেউ শিশুটির ওপর নির্যাতন করছে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে তিনি একদিন ঘরের ভেতরে গোপনে একটি মোবাইল ফোনে ভিডিও রেকর্ড চালু রেখে বাইরে যান। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটির চাচি রত্না বেগম ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত শিশুর একটি পা সজোরে মুচড়ে দিয়ে দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর শিশুটির কান্না শুনে তার মা দৌড়ে এসে ভিডিওটি দেখে ঘটনার বিষয়টি জানতে পারেন।
শিশুটির বাবা কাউসার মিয়া বলেছেন, ‘পারিবারিক কলহের জেরে আমার শিশু সন্তানকে আমার বড় ভাইয়ের স্ত্রী রত্না বেগম অগোচরে নির্যাতন করতেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমার স্ত্রী ঘরের ভেতর একটি মোবাইল ফোনে ভিডিও অন করে রেখে চলে যায়। শিশুটি কান্না শুরু করলে দৌড়ে এসে ভিডিওতে দেখেন, আমার ভাইয়ের স্ত্রী রত্না বেগম আমার শিশুটির একটি পায়ে সজোরে মুচড়ে দেন। তবে আমার সন্তানের পা ভাঙে নি। বিষয়টি নিয়ে পারিবারিকভাবে বসে সমাধান করা হয়েছে।’
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত শিশুর পা ভেঙে দেওয়ার দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।





