তারেক রহমানের নেতৃত্বে স্মরণকালের সেরা দুর্গোৎসব: খন্দকার মারুফ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এ বছর স্মরণকালের সেরা ও নান্দনিক পরিবেশে দুর্গোৎসব পালিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সব ধর্মের মানুষ সমান সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজার নবমীতে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার ভাওরখোলা, বড়কান্দা, তুলাতলি, মাতাবেরকান্দি, মাতাবেরকান্দি মধ্যপাড়া, শিকিরগাঁও, দড়িকান্দি সেননগর, সোনারচর ও রাধানগরের নয়টি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে বিভিন্ন সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. খন্দকার মারুফ হোসেন অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলের গত ১৭ বছরে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব পালন করতে পারেননি। চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় তাঁদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাতে হয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের কঠোর আইনি পদক্ষেপের কারণে এ বছর সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সুধী সমাবেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশে মুসলিম, সনাতন, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মিলেমিশে বসবাস করছেন। এটি দেশের শত বছরের ঐতিহ্য। এ ঐতিহ্য রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধেও সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছেন।
খন্দকার মারুফ হোসেনের ভাষ্য, বিএনপির কাছে সব ধর্মের মানুষ নিরাপদ। দলটি ক্ষমতায় থাকলে সব সম্প্রদায়ের মানুষ নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন। কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন সহিংসতার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করলে সম্মিলিতভাবে তা প্রতিহত করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনে পারস্পরিক বিশ্বাস, ভালোবাসা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা বজায় রাখা প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। দুর্গাপূজা বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। এটি অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ ও সত্যের বিজয়ের প্রতীক।
পূজামণ্ডপে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপনে সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং সহিংসতা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে। প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীরাও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁদের পাশে থাকবেন বলে জানান তিনি।
এ সময় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতারা খন্দকার মারুফ হোসেনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রিন্সিপাল মো. রেজাউল করিম, মেঘনা উপজেলা বিএনপির নেতা এস.এম. সালাহউদ্দিন সরকার, এম.এম. মিজানুর রহমান, অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম, আবু ইউসুব নয়ন, দিলারা শিরীন, মো. জহিরুল ইসলাম, আবদুল মতিন এবং যুবদল নেতা ও চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ভূঁইয়াসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।



