বিতর্কের মুখে রাবি শিবিরের পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানের নাম পরিবর্তন

ছবিঃ আগামীর সময়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ছাত্রশিবিরের ঘোষিত ‘বৈশাখ-ই আকবর’ শীর্ষক কর্মসূচি তীব্র সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন করে আয়োজনটির নাম রাখা হয়েছে ‘নববর্ষ প্রদর্শনী উৎসব ১৪৩৩’। একই সঙ্গে পূর্বে দেওয়া ঘোষণাসংক্রান্ত ফেসবুক পোস্টও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গতকাল রবিবার রাবি শাখা ছাত্রশিবির বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে শহীদ মিনার এলাকায় দিনব্যাপী একটি অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয়।
পোস্টে জানানো হয়, এই আয়োজনের মাধ্যমে গ্রামীণ ঐতিহ্য, বাংলা নববর্ষের ইতিহাস এবং মুসলিম সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান তুলে ধরা হবে।
তবে সেখানে সরাসরি ‘পহেলা বৈশাখ’ শব্দটি ব্যবহার না করে ‘১৪ এপ্রিল ২০২৬’ উল্লেখ করা হয়, যা নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ঘোষণার পরপরই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। অনেকেই ‘বৈশাখ-ই আকবর’ নামকরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এ বিষয়ে রাবি শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি শেখ নূর উদ্দিন আবীর তার ফেসবুক পোস্টে সম্রাট আকবর এবং তার প্রবর্তিত ‘দীন-ই-ইলাহী’ প্রসঙ্গ তুলে ধরে তীব্র সমালোচনা করেন।
তার দাবি, আকবর ইসলামের মৌলিক নীতির পরিবর্তন ঘটিয়ে একটি ভিন্নধর্মী বিশ্বাস প্রচলন করেছিলেন, যা ইসলামবিরোধী হিসেবে বিবেচিত। সেই প্রেক্ষাপটে ‘বৈশাখ-ই আকবর’ নামটি ব্যবহারকে তিনি বিতর্কিত হিসেবে আখ্যা দেন।
ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে আজ সোমবার বিকাল ৫টার দিকে হঠাৎ করেই ছাত্রশিবির তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে আসে।
নতুন ঘোষণায় জানানো হয়, কর্মসূচির নাম পরিবর্তন করে ‘নববর্ষ প্রদর্শনী উৎসব ১৪৩৩’ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আগের পোস্টটি মুছে ফেলা হয়, যা থেকে বোঝা যায় সংগঠনটি বিতর্ক প্রশমনে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।
নাম পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করে ছাত্রশিবির তাদের ফেসবুক বিবৃতিতে জানায়, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আবহমান গ্রাম-বাংলার সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরতেই এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। তবে টাইটেল নিয়ে সুধীজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পক্ষ থেকে আপত্তি এবং বিতর্ক তৈরি হওয়ায় সেটি পরিবর্তন করা হয়েছে।
তারা আরও স্পষ্ট করে, সম্রাট আকবর বা তার প্রবর্তিত ‘দ্বীন-ই-ইলাহী’ প্রচার করার কোনো উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। বরং ইতিহাসের প্রেক্ষাপট তুলে ধরার একটি প্রয়াস ছিল এটি।
বিবৃতিতে সংগঠনটি সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার কথাও জানায়।
তারা জানায়, এসব মতামত তাদেরকে আরও সমৃদ্ধ করবে। একই সঙ্গে তারা সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে পরদিনের প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায়।
এ বিষয়ে রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীব বলেছেন, সংগঠনের এক্সিকিউটিভ বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। মূল আয়োজন অপরিবর্তিত থাকলেও কেবল টাইটেলটি বদলানো হয়েছে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, সম্রাট আকবরের আমল থেকেই বাংলায় ফসলি সনের প্রচলন শুরু হয়। এই ঐতিহাসিক ধারণা থেকেই ‘বৈশাখ-ই আকবর’ নামটি নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন মহল থেকে এ নাম নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় আপাতত তা থেকে সরে এসে নতুন নাম গ্রহণ করা হয়েছে।
















