বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার নিচে তিস্তার পানি, রাজারহাটে বন্যার শঙ্কা

ছবি: আগামীর সময়
উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে ঘরবাড়িতে। বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলে।
গতকাল সোমবার দুপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, উজানের ঢলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে জেলার সব নদ-নদীর। তিস্তা নদীর বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৩১ মিটার। কাউনিয়া পয়েন্টে সোমবার সকাল ৬টায় নদীর পানির উচ্চতা ছিল ২৯ দশমিক ০০ মিটার। দুপুর ১২টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯ দশমিক ২৯ মিটারে এবং বিকেল ৩টায় ২৯ দশমিক ৩০ মিটারে পৌঁছে। ফলে পানি বর্তমানে বিপৎসীমার মাত্র এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিকে নদীর পানি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে পাউবো।
পানি বাড়তে থাকায় উপজেলার নাজিমখানের পলাশপুর, ঘড়িয়ালডাঙ্গার বুড়িরহাট, বিদ্যানন্দের তৈয়ব খাঁ ও রামহরি এলাকাসহ অন্তত ১০টি গ্রামের হাজারো মানুষ পানিবন্দী হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। একই সঙ্গে চরাঞ্চলের বীজতলা, পাট, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসল তলিয়ে গেছে।
রাজারহাট উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পানি বৃদ্ধির কারণে চরাঞ্চলের বিভিন্ন ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে বুড়িরহাট, তৈয়ব খাঁ ও বিদ্যানন্দ এলাকার কিছু অংশ এরই মধ্যে প্লাবিত হয়েছে। জিও ব্যাগ ফেলার কাজ বিলম্বিত হওয়ায় এবং বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
নদীতীরবর্তী বাসিন্দা নূর আমীন জানিয়েছেন, পানি বাড়তে থাকায় জলিল ও নূর ইসলাম তাদের ঘরবাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। নিম্নাঞ্চলের অনেক পরিবারের ঘরে এরই মধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে, ফলে তারা দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা যাবর আলী দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তার বাড়ি এরই মধ্যে তিনবার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আবারও পানি বাড়তে থাকায় তিনি নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কায় রয়েছেন। তার ভাষ্য, আরেকবার ভাঙন হলে তিনি পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে যাবেন।
বুড়িরহাট এলাকার ভান্ডার জামে মসজিদের ইমাম বলেছেন, মসজিদটি নদীর খুব কাছাকাছি হওয়ায় পানি আরও বাড়লে এবং ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে সেটিও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে জেলার সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিস্তা নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোয় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ অব্যাহত রয়েছে।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানিয়েছেন, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি সহায়তা হিসেবে ২ লাখ টাকা এবং ১ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভাঙন প্রতিরোধে জেলার প্রতিটি উপজেলার জন্য ১ হাজার করে জিও ব্যাগ সংরক্ষণ করা হয়েছে।





