২০০ টাকার চারায় শুরু, প্রেম কুমারের আয় এখন লাখ টাকা

মাত্র ২০০ টাকা দিয়ে কেনা একটি চারা থেকে শুরু। দেড় দশকের পরিশ্রমে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার মাঝিয়ালী গ্রামের কৃষক প্রেম কুমার সরকার এখন সাড়ে ৯ বিঘা লেবু বাগানের মালিক। বীজহীন কাগজি লেবু চাষ করে বদলে গেছে তার আর্থিক অবস্থা। লেবু ও চারা বিক্রি করে মাসে গড়ে প্রায় ১ লাখ টাকা আয় করছেন তিনি।
প্রেম
কুমারের
লেবু
চাষের
গল্পের
শুরু
২০১১
সালে।
তখন
তিনি
প্রচলিত
ফসলের
চাষ
করতেন।
একদিন
বাজারে
দেখেন,
এক
বস্তা
লেবু
বিক্রি
হচ্ছে
৪
হাজার
টাকায়।
অথচ
এক
গাড়ি
বেগুন
বিক্রি
করেও
৩
হাজার
টাকা
পাওয়া
কঠিন।
এই
হিসাব
তাকে
ভাবিয়ে
তোলে।
পরে
শ্বশুরবাড়ি
কেশবপুরে
গিয়ে
চৈত্র
মাসে
গাছে
লেবু
দেখে
আগ্রহী
হন।
খোঁজ
নিয়ে
জানতে
পারেন,
এটি
সিলেটের
একটি
জাত।
এরপর
এক
এজেন্টের
মাধ্যমে
২০০
টাকা
দিয়ে
একটি
চারা
কিনে
আনেন।
সেই
চারা
থেকেই
গড়ে
উঠেছে
তার
জীবিকার
বড়
অবলম্বন। নিজেই চারা তৈরি করে প্রথমে ১০ কাঠা জমিতে লেবুর বাগান করেন প্রেম কুমার।
এক
বছরের
মাথায়
ফলন
আসতে
শুরু
করে।
ওই
জমি
থেকে
বছরে
দেড়
লাখ
টাকার
লেবু
বিক্রি
করেন
তিনি।
প্রেম কুমারের বাগানের লেবু মূলত দেশি কাগজি হাইব্রিড জাতের, যা বীজহীন ও সুগন্ধিযুক্ত। এর বিশেষত্ব, সারা বছর ফলন পাওয়া যায়। বিশেষ করে ফাল্গুন, চৈত্র ও বৈশাখ মাসে বাজারে যখন লেবুর সরবরাহ কমে যায়, তখন এই বাগানে প্রচুর ফল ধরে। ফলে সংকটের সময়ে ভালো দাম পাওয়া যায়।
বর্তমানে সাড়ে আট বিঘা জমিতে তার লেবুর বাগান রয়েছে। সেখানে গাছের সংখ্যা দেড় থেকে দুই হাজার। প্রেম কুমার জানালেন, গত বছর সাত বিঘা জমিতে চাষ করেছিলেন। এ বছর আরও দেড় বিঘা জমিতে বাগান সম্প্রসারণ করেছেন। লেবু বিক্রির পাশাপাশি কলম চারা তৈরি করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করেন তিনি।
শুধু বাঘারপাড়ায় নয়, যশোরের অন্যান্য উপজেলাতেও বীজহীন লেবুর চাষ বাড়ছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আট উপজেলায় ১৬০ হেক্টর জমিতে সিডলেস লেবুর আবাদ হচ্ছে। বাঘারপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইয়্যেদা নাসরিন জাহানের ভাষ্য, সিডলেস লেবু ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ একটি উচ্চমূল্যের ফসল। দিন দিন এর আবাদ বাড়ছে।



